চুক্তিভঙ্গের হুঙ্কার দিতেই নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র! গভীর রাতে সিজেপি নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসল সরকার

কেন্দ্রের থেকে যথাযথ প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই নিট (NEET) আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। কিন্তু সেই আশ্বাসের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত চুক্তি না থাকায় সোমবার সন্ধেয় সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক ‘চুক্তিভঙ্গে’র অভিযোগ তুলে ফের রাজপথে বড়সড় আন্দোলন শুরুর চরম হুঁশিয়ারি দেয় সিজেপি। আর এই ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন বা আল্টিমেটামের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত সোমবার গভীর রাতে এক জরুরি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান যে, প্রেসেন্স কনফারেন্স শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন।

দীর্ঘ বৈঠক ও সরকারের তরফে নোটিফিকেশন প্রদান
প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই ম্যারাথন বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে বিহার এবং অসম সরকারের জারি করা বিশেষ বিজ্ঞপ্তির কপি আন্দোলনকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই সরকারি নোটিফিকেশনগুলিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর (FIR) প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ না করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি এবং আটক ও গ্রেফতার হওয়া সমস্ত শিক্ষার্থী ও ভলান্টিয়ারদের নিঃশর্ত মুক্তির পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া রয়েছে বলে সিজেপির তরফে জানানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্যান্য বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিও দ্রুত একই ধরনের গ্যারান্টিযুক্ত নোটিফিকেশন জারি করবে বলে বৈঠকে আশ্বাস দিয়েছে। বৈঠকে যে সমস্ত শর্তে কেন্দ্র ও সিজেপি একমত হয়েছিল, পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতেও অবিকল সেই শর্তগুলিই বজায় রাখা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারী নেতৃত্ব।

চুক্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ও কপিল সিব্বলের ভূমিকা
এর আগে সোমবার প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার বিশিষ্ট সাংসদ কপিল সিব্বলকে পাশে বসিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ২৫ জুলাইয়ের সমঝোতার লিখিত চুক্তি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের হাতে না পৌঁছায়, তবে তাঁরা আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। এমনকি কপিল সিব্বলের সঙ্গে আলোচনা করেই যে তাঁদের পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হচ্ছে, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। সিজেপি নেতাদের অভিযোগ ছিল, রাজপথের আন্দোলন থিতিয়ে গেলেই সরকার বিক্ষিপ্তভাবে পড়ুয়াদের টার্গেট করে বদলা নেওয়া শুরু করবে—যা তাঁরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না।

ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষায় ‘সাক্ষী’ প্ল্যাটফর্ম
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কোনো শিক্ষার্থী বা সাহায্যকারী যাতে কোনোভাবেই আইনি বিপাকে বা পুলিশি হেনস্থার শিকার না হন, তার জন্য ইতিমধ্যে সিজেপি ‘সাক্ষী’ (Saakshi) নামে একটি নতুন অনলাইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে যেকোনো ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পুলিশি দমনপীড়নের ছবি বা ভিডিও আপলোড করে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি সহায়তা পেতে পারবেন। সব মিলিয়ে, সরকারের সঙ্গে এই নতুন সমঝোতার পর আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হলেও, গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্দোলনকারী শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *