ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরেই তুঙ্গে জল্পনা! দেশের পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী কে হচ্ছেন?

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিতর্ক এবং দেশজুড়ে চলা তীব্র ও নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর এই আচমকা পদত্যাগের পরই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিরাট জল্পনা—দেশের পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে উঠবে এই গুরুদায়িত্ব? মোদী মন্ত্রিসভার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
কারা রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীর দৌড়ে?
যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নতুন শিক্ষামন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অন্দরে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় যাঁদের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—
-
জয়ন্ত চৌধুরী: বর্তমানে তিনি শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী (MoS) হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। যেহেতু তিনি ইতিমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম এবং নীতিমালার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাই তাঁকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছে।
-
সুকান্ত মজুমদার: বর্তমানে তিনিও শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখে অনেকের মুখেই বাংলার এই হেভিওয়েট নেতার নাম উঠে আসছে।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যদি সম্পূর্ণ নতুন কোনো সমীকরণ চান, তবে বর্তমান মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে কোনো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংসদ বা অন্য কোনো প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেও এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব সঁপে দিতে পারেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন শিক্ষামন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রীর নাম দেশবাসীর সামনে ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান উত্তাল ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে এমন একজন দক্ষ, সৎ ও দৃঢ়চেতা নেতাকে এই পদের দায়িত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যিনি দ্রুত শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার আনতে পারবেন, পরীক্ষা পরিচালন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ফেরাতে পারবেন এবং বিক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজের হারানো আস্থা পুনরায় অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো নাম ঘোষণা না হওয়ায় এই সমস্ত আলোচনাই আপাতত নিছক রাজনৈতিক জল্পনার স্তরে রয়েছে। খুব শীঘ্রই সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে ভারতের পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রীর নাম।