‘শ্রীকৃষ্ণ মুসলমান ছিলেন, ৫ বার নমাজও পড়তেন,’ মৌলানার মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও ভগবান রামকে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মৌলানা জরজিস আনসারি। ঝাড়খণ্ডের একটি জনসভায় তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা গেছে যে, শ্রীকৃষ্ণ আসলে মুসলমান ছিলেন এবং তিনি দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তেন।

কী দাবি করেছেন মৌলানা? ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মৌলানা জরজিস আনসারি শ্রীমদ্ভগবত গীতার একটি শ্লোক (ষষ্ঠ অধ্যায়ের দশম শ্লোক)—’যোগী যুঞ্জিত সততমাত্মনম একাকি…’ উদ্ধৃত করে তার ভুল ব্যাখ্যা করছেন। তাঁর দাবি, এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যে যোগাভ্যাসের কথা বলেছেন, তা আসলে ইসলামি নামাজেরই রূপ। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, রাম ও কৃষ্ণ কেবল হিন্দু ধর্মের দেবতা নন, বরং তাঁরা ইসলাম ধর্মের প্রচারক ছিলেন এবং ইসলাম কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়।

তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে মৌলানা মৌলানার এই ধরনের বক্তব্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন মৌলানার এই মন্তব্যকে পরিকল্পিত প্ররোচনা হিসেবে অভিহিত করেছে। তাঁদের দাবি, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ধর্মীয় গ্রন্থ ও দেবতাদের নিয়ে এমন বিকৃত ব্যাখ্যা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মৌলানাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবিতে সরব হয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

কেন এই বিতর্ক? বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ধর্মীয় গ্রন্থের শ্লোককে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে তাকে নিজ মতাদর্শের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিপন্থী। মৌলানা জরজিসের এই মন্তব্যকে হিন্দু সংগঠনগুলি শুধুমাত্র অগণতান্ত্রিকই নয়, বরং আইনত অপরাধ বলেও মনে করছে।

এই ঘটনার পর ওই এলাকায় উত্তজনা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *