“ওরা বহিরাগত, সমাজবিরোধী!” আন্দোলনের মাঝেই হিংসার ঘটনায় সাফাই দিল CJP নেতৃত্ব

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের সফল সমাপ্তির ঘোষণা করার পাশাপাশি, আন্দোলনের নামে সাম্প্রতিক কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আন্দোলন চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে হিংসার আশ্রয় নেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত অভিযুক্তদের ‘সমাজবিরোধী’ ও ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে দলের বিন্দুমাত্র কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সংগঠনের প্রধান নেতা সৌরভ দাস।
শনিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সফল বৈঠকের পরেই যন্তর মন্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্না কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয় সিজেপি। সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং আন্দোলনকারীদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হিংসার তীব্র নিন্দা ও দূরত্ব বৃদ্ধি
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌরভ দাস বলেন, “যারা হিংসার ঘটনা ঘটিয়েছে, যে সব সমাজবিরোধী মিডিয়ার বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়েছে, তাদের আচরণের তীব্র নিন্দা করছি। এই ধরনের কিছু সমাজবিরোধী সিজেপি-তে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে সিজেপির কোনও যোগ নেই। তারা যা করেছে, তার তীব্র ধিক্কার জানাই।” সংগঠনের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে এবং আন্দোলনকে সম্পূর্ণ অহিংস ও সুশৃঙ্খল রাখতে এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
আন্দোলনের সাফল্য ঘোষণা করার পাশাপাশি মিডিয়ার একাংশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সিজেপি নেতারা। সৌরভ দাসের অভিযোগ, এই আন্দোলন চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “রিপোর্টারদের দোষ নেই। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মালিক এবং চ্যানেলের এডিটর ও সঞ্চালকদের জানাতে চাই, তাঁরা যুবসমাজকে নিয়ে যা সব মন্তব্য করেছেন, তাতে মানুষ খুশি নন। এই রকম দিনও আসবে, যে দিন এই বিষয়গুলো নিয়ে যুবসমাজ পথে নামবে। ওই দিন এই সব সংবাদমাধ্যমকেও জবাবদিহি করতে হবে।” শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও সমস্ত দাবি আদায়ের পর আন্দোলন সফলভাবে তুলে নেওয়া হলেও, মিডিয়া এবং বহিরাগতদের বিষয়ে সিজেপি নেতৃত্বের এই কড়া অবস্থান বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।