‘বৈঠকে ছিলেন না, অথচ তাঁদের সই ব্যবহার করা হয়েছে!’ বিধানসভায় বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বিধানসভার চলতি অধিবেশনের সমাপ্তি লগ্নে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমস্ত বিধায়কদের ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ওঠা স্বাক্ষর বা সই জালিয়াতির এক অত্যন্ত গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। স্বাধীন ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে অনুপস্থিত থেকেও সই! মুখ্যমন্ত্রীর গভীর উদ্বেগ
বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত এই আইনি বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় সেই সংক্রান্ত আইনি প্রশ্ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, ১৩ জন বিধায়কের সই জাল কিংবা বিকৃত করার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার তীব্র নিন্দা করেছেন। সভার গরিমা ও সম্মানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন—
“যাঁরা ওই বৈঠকে উপস্থিতই ছিলেন না, তাঁদের সই জালিয়াতি করে ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতের স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এমন ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিধানসভার প্রতিটি সদস্যই রাজ্যের প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লক্ষ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। সুতরাং, সংসদীয় প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের জালিয়াতির ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা গণতান্ত্রিক মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
নবীন বিধায়কদের উপস্থিতি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা
দল বা সংখ্যার বিচারে নয়, প্রতিটি বিধায়কের সাংবিধানিক সম্মান রক্ষা করাই যে আইনসভার প্রধান কাজ হওয়া উচিত, তা এ দিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশের মতো অন্যান্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ওই রাজ্যগুলিতে জনপ্রতিনিধিদের কাজের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি উন্নয়নমূলক তহবিল ও নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ থাকে। সেই আদলে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়করাও যাতে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন, সেই উপযোগী পরিবেশ ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
পাশাপাশি, বর্তমান বিধানসভার রূপরেখা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, এ বারের বিধানসভার মোট সদস্যের ৭৫ শতাংশের বেশি বিধায়কই প্রথমবার জিতে বিধানসভায় এসেছেন। নবীন বিধায়কদের এই বিপুল উপস্থিতি এবং বিধানসভার বিতর্কে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি সাধুবাদ জানান। সবশেষে, বিরোধী দলগুলিকে বিধানসভায় পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের সদর্থক ভূমিকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।