যুবক-যুবতীর ইচ্ছে বা পরিবারের অনুমতিও এখানে মূল্যহীন! মুরগির মেটেই ঠিক করে দেয় কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে

মুরগির মাংসের সঙ্গে আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত এবং যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা অনেকেই মুরগির মেটে বা লিভার খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু খাওয়া আর ঘটকালি করা যে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। বেচারা মুরগি ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে তার শরীরের মেটে বা যকৃত কীভাবে এক তরুণ-তরুণীকে সাতপাকে বেঁধে ফেলতে পারে! তবে এমন আজব কাণ্ড সত্যি সত্যিই ঘটে এবং তা বিলক্ষণ জানেন চিনের একটি বিশেষ জনজাতির মানুষ।
সেখানে কোনো যুবক-যুবতী একে অপরকে পছন্দ করেন কিনা, তাঁরা আদৌ বিয়ে করতে চান কি না কিংবা তাঁদের পরিবার সেই বিয়েতে রাজি আছে কি না—এসবের বিন্দুমাত্র গুরুত্ব নেই! এমনকি পাত্র-পাত্রী এবং পরিবার রাজি থাকলেও নিমেষে ভেস্তে যেতে পারে সেই বিয়ে। কারণ, তাদের সমস্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করে একটি ছোট মুরগির মেটের ওপর!
মুরগির মেটেই ঠিক করে বিয়ের ভাগ্য
চিনে ‘দাউর’ (Daur) নামে এক প্রাচীন আদিবাসী সম্প্রদায় রয়েছে, যেখানে বিয়ের পুরো ব্যাপারটাই সম্পূর্ণভাবে মুরগির মেটের ভরসায় পরিচালিত হয়। সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো যুবক ও যুবতী নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁদের একটি ছোট মুরগি বলি দিতে হয়।
এরপর অত্যন্ত সাবধানে সেই মুরগির দেহ থেকে তার মেটে বা লিভারটি বের করে আনা হয়। শুরু হয় মূল পর্যবেক্ষণের পালা! প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সেই মেটে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখেন।
যদি দেখা যায় যে মেটেটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং তার আকার-আয়তন সবদিক থেকে নিখুঁত, তবেই মিলে সবুজ সংকেত। এরপর আর কালক্ষেপ না করে দ্রুত বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা সম্পন্ন করে চারহাত এক করে দেওয়া হয়।
মেটে পছন্দ না হলেই বাতিল বিয়ে!
কিন্তু যদি মুরগি কাটার পর দেখা যায় যে তার যকৃত বা মেটেটি আকারে ছোট, অসুস্থ বা সঠিক আকৃতির নয়, তবে পাত্র-পাত্রীর শত ইচ্ছা থাকলেও বিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হয়।
অবশ্য এই বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের প্রেম বা বিয়ে চিরতরে ভেঙে গেল! এর অর্থ হলো, তাদের কপালে প্রথমবারে শিকে ছেঁড়েনি। এরপর ওই হবু দম্পতিকে ফের আরেকটি নতুন ছোট মুরগি খুঁজতে হয়। পুনরায় সেই মুরগি কেটে মেটে পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় বা তার পরবর্তী কোনো বারে যদি মেটেটি সঠিক আকার ও স্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়, তবেই গিয়ে তাঁদের বিয়েতে আর কোনো বাধা থাকে না!