‘হাউ হাউ করে কান্না’ আর দেখা যাবে না? শ্রীরামপুরের এই বিখ্যাত পুজোয় এল বিরাট পটপরিবর্তন

এতদিন যা ছিল শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো হিসেবেই সর্বজনবিদিত, এবার থেকে সেই চেনা ছকে বড়সড় বদল আসতে চলেছে। প্রতি বছর সন্ধি পুজোর সময় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাউ হাউ করে কান্নার দৃশ্যটি ছিল এই পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু এ বছর থেকে শ্রীরামপুর আরএমএস মাঠের (RMS Ground) এই দুর্গাপুজোয় সেই দৃশ্য আর দেখতে পাওয়া নাও যেতে পারে। রাজ্যে পালাবদলের পর এই পুজোয় এবার পুরনো উদ্যোক্তাদের সরিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরাসরি পুজোর দায়িত্ব নিল বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শুক্রবার মহাসমারোহে সম্পন্ন হলো এই বছরের খুঁটিপুজো। যদিও গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে পুজো ‘দখল’ করার সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুজো ও কল্যাণের আবেগপূর্ণ যোগ
শ্রীরামপুরের আরএমএস মাঠে ৫ ও ৬-র পল্লী গোষ্ঠী ব্যবসায়ী সমিতি এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর আয়োজন করে থাকে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় সন্তোষ সিং (পাপ্পু)-রা এই পুজো পরিচালনা করতেন। এই পুজো কমিটির সভাপতি ছিলেন স্বয়ং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক ছিলেন সন্তোষ সিং। প্রতি বছর রথযাত্রার দিন ঢাক-কাঁসর বাজিয়ে এই পুজোর খুঁটিপুজো শুরু হতো এবং পুজোর বাজেট প্রায় কোটির কোঠায় গিয়ে পৌঁছাত।
তবে চলতি বছরে রথযাত্রার দিনে সেই চেনা ছবি দেখা যায়নি, এমনকি পুজো নিয়ে কোনো প্রাথমিক উদ্যোগও চোখে পড়েনি। এরপর রথযাত্রার দিন খুঁটিপুজো না হলেও উল্টো রথের দিন স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ঢাক ও শঙ্খ বাজিয়ে ঘটা করে খুঁটিপুজো সম্পন্ন হয়। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা অমিতাভ ঘোষ, স্বপন চক্রবর্তী প্রমুখ।
কী বলছে বিজেপি? পুজো দখলের অভিযোগ খণ্ডন
পুজো হস্তগত করার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি নেতা অমিতাভ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, “অনেকের ধারণা, বিজেপি পুজো দখল করছে। এটা একদম ঠিক নয়। বিজেপি দখলদারির রাজনীতি করে না। আমরা দেখেছিলাম, এখানকার ব্যবসায়ীরা বিপদের মধ্যে রয়েছেন। যে সাংসদ পুজোয় উদ্যোগ নিতেন, তিনি আর করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। পুজো কমিটির বর্তমান সেক্রেটারিও বিষয়টি নিয়ে গা দেননি।” তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে পড়ায় তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই চাঁদা তুলে পুজোটি করা হবে। এছাড়া প্রতি বছর সন্ধি পুজোয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কান্নাকাটি প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সাংসদ ভক্তিভরে কাঁদতেন কি না তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়, তাঁকে ছোট করবেন না। তবে শ্রীরামপুরের এই পুজো সবার, তাই যে কেউ এসে পুজোয় অংশ নিতে পারেন।
কী সাফাই দিলেন সন্তোষ সিং?
অন্যদিকে, কল্যাণ-ঘনিষ্ঠ সন্তোষ সিং সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুজো করার বিষয়ে তাঁরা আগেই আগামীকালের জন্য একটি মিটিং ডেকেছিলেন, কিন্তু তার আগেই আচমকা খুঁটিপুজো হতে দেখেন। তৃণমূল দল বা নেতৃত্ব কখনই পুজো দখল করে না দাবি করে তিনি বলেন, ২০১০ সালে ব্যবসায়ীরা যখন পুজো বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁরা এর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “পুজো সবার, মায়ের কোনো ভাগ হয় না।”