ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া একচুলও নড়বড়ে নয় অবস্থান! হুঙ্কার দিয়ে কী জানালেন সিজেপি প্রধান?

শুক্রবার সংসদের উভয় কক্ষেই বিরোধী দলের সাংসদদের তীব্র বিক্ষোভের জেরে নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংসদ চত্বরে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানায়। অন্যদিকে, রাজধানীর যন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ এখনও সমানতালে অব্যাহত রয়েছে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না।

সিজেপি প্রধানের হুঙ্কার ও সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে বার্তা:
তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “যতক্ষণ না ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ যন্তর মন্তরে আমাদের এই প্রতিবাদ আন্দোলন অবিরাম চলবে।” একইসঙ্গে ২৬ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা গভীরভাবে স্বস্তি পেয়েছি যে সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন শেষ করেছেন, কারণ তাঁর জীবন দেশের ভবিষ্যৎ ও এই দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।” এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আজকের সম্ভাব্য বৈঠক প্রসঙ্গে দীপক মন্তব্য করেন যে, বৈঠকটি নিরপেক্ষ স্থানে হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

সংসদ চত্বরে বিরোধী দলগুলির যৌথ গর্জন:
শুক্রবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং অন্যান্য বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা সংসদ চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংসদের মকর দ্বারের কাছে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের হেভিওয়েট নেতারা অংশ নেন।

বিক্ষোভস্থল থেকে তীব্র কণ্ঠে “আমরা ন্যায়বিচার চাই” স্লোগান তোলা হয়। সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাস সাফ জানিয়ে দেন, “বিরোধী জোটের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সব সময় জবাবদিহিতার কথা বললেও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখছেন। অন্যদিকে, এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, “রোগ যখন সরাসরি গোড়ায় চেপে বসেছে, তখন কেউ ওপর ওপর প্রলেপ দিয়ে ফলপ্রসূ চিকিৎসায় বিশ্বাস করে না। দেশের প্রতিটি সংকটের একটাই মূল কারণ, যা অত্যন্ত জেদি। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন আমি কার বা কাদের কথা বলছি।”

উত্তাল হট্টগোলে দু’টি সভাই মুলতবি:
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী সদস্যদের লাগাতার হট্টগোল ও শ্লোগানবাজির জেরে শুক্রবার লোকসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করে দেওয়া হয়। রাজ্যসভাতেও একই রকম উত্তপ্ত ও অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সকালবেলা অধিবেশন শুরু হলে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা কার্গিল বিজয় দিবসের (২৬শে জুলাই) পবিত্র স্মৃতির কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং কার্গিল সংঘাতে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বীর জওয়ানদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সদনে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর ঠিক পরেই বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। তাঁরা মূলত সোমবার রাজধানীতে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়ন ও লাঠিচার্জের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলি একে একে উত্থাপন করেন।

স্পিকার ওম বিরলা শান্তভাবে প্রশ্নোত্তর পর্ব সুচারুভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিরোধী সাংসদদের বারবার অনুরোধ জানান এবং আশ্বাস দেন যে, নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর তিনি প্রত্যেক সদস্যকে তাঁদের নিজ নিজ মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ দেবেন। সভা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিরোধী সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করে স্পিকার বলেন, “প্রশ্নোত্তর পর্ব হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীদের প্রশ্ন করেন এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন।”

তবে বারংবার নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও সভায় হট্টগোল ও শোরগোল না থামায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে স্পিকার ওম বিরলা দুপুর ১২টা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *