উল্টো রথের আনন্দ হোক জমজমাট! ঘরেই বানিয়ে নিন পুরীর বিখ্যাত মুচমুচে ও রসালো খাজা গজা

রথযাত্রার আনন্দ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হল মিষ্টিমুখ। আর রথ কিংবা উল্টো রথের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরীর জগন্নাথ দেবের মহাপ্রসাদের অন্যতম আকর্ষণ ‘খাজা’ বা ‘গজা’। উপচে পড়া ভিড়ে পুরী গিয়ে সেই বিশেষ গজার স্বাদ পাওয়ার সুযোগ না হলেও কিন্তু আফসোসের কিছু নেই। খুব সহজে এবং অল্প সময়ে ঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই বানিয়ে নেওয়া যাক একদম পুরীর মতো মুচমুচে ও রসালো গজা।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

ময়দা: ২ কাপ

ঘি বা রিফাইন তেল: ৪ টেবিল চামচ (ময়ানের জন্য)

বেকিং পাউডার: আধা চা চামচ (ঐচ্ছিক)

নুন: এক চিমটে

চিনি: ১.৫ কাপ (রসের জন্য)

জল: ১ কাপ

এলাচ গুঁড়ো: আধা চা চামচ

ভাজার জন্য তেল বা ঘি

বানানোর সহজ নিয়ম:
প্রথমে একটি পাত্রে ময়দা, এক চিমটে নুন এবং ঘি দিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে ‘ময়ান’ দিয়ে নিতে হবে। ময়দা হাতের মুঠোয় দলা পাকালে বুঝতে হবে ময়ান সঠিক হয়েছে। এবার অল্প অল্প ঠান্ডা জল দিয়ে একটু শক্ত ডো (খামির) তৈরি করে নিন এবং ১৫-২০ মিনিট ঢাকনা দিয়ে রেখে দিন।

মাখা ময়দা থেকে বড় লেচি কেটে পাতলা করে কয়েকটি রুটি বেলে নিন। এবার একটি রুটির ওপর সামান্য ঘি ও অল্প ময়দা ছড়িয়ে তার ওপর দ্বিতীয় রুটি রাখুন। এভাবে ৩-৪টি রুটি একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে একটি রোল (গোটানো) বানিয়ে নিন। রোলটি তৈরি হয়ে গেলে ছুরি দিয়ে সমান টুকরো করে কেটে নিন। প্রতিটি কাটা টুকরো আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিলেই সুন্দর পরত বা স্তর তৈরি হয়ে যাবে।

কড়াইয়ে তেল হালকা গরম করুন— খেয়াল রাখবেন তেল যেন খুব বেশি গরম না হয়। এবার কম আঁচে গজাগুলো ধীরে ধীরে ভাজতে থাকুন, যাতে ভেজরের প্রতিটি পরত ভালোভাবে খাস্তা হয়। সোনালি রঙ ধরে এলে তেল থেকে তুলে নিন। অন্য একটি পাত্রে চিনি ও জল ফুটিয়ে এক তারের ঘন রস তৈরি করে তাতে সামান্য এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। এবার ভেজে রাখা গরম গজাগুলো এই চিনির রসে ফেলে মিনিট পাঁচেক ডুবিয়ে রাখুন। রস থেকে তুলে থালায় ছড়িয়ে ঠান্ডা করলেই বাইরের চিনির আস্তরণ শুকিয়ে মুচমুচে হয়ে উঠবে— তৈরি আপনার উল্টো রথের স্পেশাল পুরীর স্টাইলের খাজা গজা!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *