‘বিকশিত ভারত গড়ার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই!’ রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির বৈঠকে বড় বার্তা কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রীর

উন্নত রাষ্ট্র হয়ে ওঠার জন্য ভারতের কাছে প্রয়োজনীয় জনবল এবং অর্থ—উভয় সম্পদই পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। কেবল এই শক্তিকে উপলব্ধি করে দেশের চরণে নিজেদের উৎসর্গ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। হরিয়ানার সমলখায় আয়োজিত রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির বৈঠকে এমনই জোরালো বার্তা দিলেন সমিতির প্রমুখ কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

বৈঠক ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
হরিয়ানার সমলখার ‘মাধব স্মৃতি চত্বর’-এ রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী ও প্রতিনিধি দলের প্রথম অর্ধবার্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছে। বন্দনীয়া প্রমুখ সঞ্চালিকা শান্তা কুমারী এবং প্রমুখ কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রীর উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের ৩৮টি প্রদেশ থেকে প্রায় ৫০০ জন মহিলা প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির প্রাক্তনী সর্বভারতীয় সহকার্যবাহিকা রুক্মিণী অক্কা এবং রেখাতাই রাজেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি, প্রয়ত অন্য কর্মী, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে, সুমন কল্যাণপুর, এস জানকি ছাড়াও বিগত এক বছরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সেনা জওয়ান ও সাধারণ নাগরিক, এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো মানুষের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রতিনিধিরা।

ভারতর ক্রমবর্ধমান বিশ্বপ্রভাব ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সীতা গায়ত্রী উল্লেখ করেন, ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে ভারতের বিমান পৌঁছানো ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (সারা বিশ্ব এক পরিবার)—এর এক অনন্য নিদর্শন। এছাড়া আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জয় এবং আইসিসি মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের দুর্দান্ত সাফল্য বিশ্বমঞ্চে দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। প্রসঙ্গত, ১৯৩৬ সালে মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধায় লক্ষ্মীভাই কেলকার (মৌসীজি) রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

নারী শক্তি ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের অগ্রগতি
উদ্বোধনী অধিবেশনে সমিতির কাজের রূপরেখা তুলে ধরে জানানো হয় যে, গত এক বছরে শাখা সংখ্যা, মিলন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ২,৮৬৬টি স্থানে সেবা কার্য পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা, সংস্কার, স্বাবলম্বন এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পাশাপাশি বহু জায়গায় যোগা কেন্দ্রও চালানো হচ্ছে।

ছাত্রবাস ও প্রশিক্ষণ: দুর্গম এলাকা থেকে আসা মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বিশেষ ছাত্রবাস পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে সারা দেশে আয়োজিত ২৫০টি সেশনে প্রায় ১৫,২৪১ জন সেবিকা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

বিশেষ অর্জন: দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সেবিকাদের পক্ষ থেকে ‘পথ সংচলন’ (মার্চ পাস্ট) সফলভাবে আয়োজিত হয়। এছাড়া জম্মুর শিক্ষা শিবিরে চরম দুর্যোগ ও বৃষ্টির মাঝেও সেবিকাদের অদম্য মনোভাব নজর কাড়ে।

‘নারী সে নারায়ণী’ সম্মেলন: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ভারতীয় বিদৎ পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত হয় ‘নারী সে নারায়ণী’ সম্মেলন। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫০০-র বেশি মহিলা অংশ নেন এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মূল্যবান দিকনির্দেশনা লাভ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *