নিট প্রশ্নফাঁসে মৃত্যুদণ্ড কিংবা ১ কোটির জরিমানা? ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই বড় আইন আনছে মোদী সরকার!

বছর বছর নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস (NEET Paper Leak) এবং তার জেরে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। প্রশ্ন ফাঁস রুখতে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষমুক্ত করতে যখন রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র-যুবরা জোরদার বিক্ষোভে নেমেছেন, ঠিক তখনই অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল কেন্দ্র। দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চুরি চিরতরে ঠেকাতে এবার একগুচ্ছ কঠোর বিধানসহ নতুন সংশোধনী আইন আনতে চলেছে মোদী সরকার।

সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হতে চলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনী বিল পেশ করা হতে পারে এবং আজই তা ক্যাবিনেটের অনুমোদন পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা ও নতুন আইনের রূপরেখা
এর আগে গত রাতেই আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে একটি বিশেষ ভিডিয়ো বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রশ্নফাঁস রুখতে সরকার যে সবরকম প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ করবে, সেই মর্মে তিনি কড়া আশ্বাস দেন। এরপরেই তড়িৎ গতিতে নতুন বিল আনার পরিকল্পনা প্রস্তুত হয়। বর্তমানে পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট ২০২৪-এ বড়সড় সংশোধন এনে আইনটিকে আরও অনেক বেশি শক্তপোক্ত করা হচ্ছে।

কী ধরনের শাস্তির প্রস্তাব থাকছে নতুন বিলে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিলে প্রশ্নফাঁস রোধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের জন্য জেলের মেয়াদ এবং আর্থিক জরিমানার পরিমাণ এক ধাক্কায় বহুলাংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে:

জরিমানা ও জেল: বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁসের অপরাধে ৩ থেকে ৫ বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন বিলে এই জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে সোজা ১ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

পরিকল্পিত অপরাধ: যদি পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়, তবে দোষীদের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি অপরাধের বিষয়টি জেনেও যারা চেপে যাবে বা অভিযোগ জানাবে না, তাদেরও ১ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে।

ক্ষতিপূরণ: মর্মান্তিক হলেও সত্যি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে যদি কোনো পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তবে সেই নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের চিন্তাভাবনায় রয়েছে।

আজ ক্যাবিনেটের অনুমোদন মিলে গেলে আগামী সোমবারই লোকসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পেশ করতে পারে সরকার। এদিকে সংসদ অধিবেশনকে কেন্দ্র করেও কেন্দ্রের তরফে বিশেষ রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি সাজানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সংসদে বিল পেশের সময় আলোচনা চলাকালীন কংগ্রেস জমানার বিভিন্ন আমলের প্রশ্ন ফাঁসের নজির টেনে আক্রমণ শানাতে প্রস্তুত কেন্দ্র। বিরোধীরা যদি এই সদর্থক আলোচনায় অংশ না নেয়, সেক্ষেত্রেও তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার জোরালো সুযোগ থাকবে সরকারের হাতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *