মহানায়কের জন্মশতবর্ষে বিরাট ঘোষণা! উত্তমকুমারের স্মৃতিতে কী তৈরির পরিকল্পনা নিলেন শুভেন্দু?

আজ ২৪ জুলাই, বাঙালির চিরকালের আবেগ, নস্টালজিয়া আর রোমান্টিকতার প্রতিমূর্তি মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় থাকা এই বিশেষ দিনে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে উপস্থিত হয়ে মহানায়কের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁর আবক্ষমূর্তি ও স্মারকফলকে মাল্যদানের পাশাপাশি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা আর্টিস্ট ফোরামের প্রতিনিধি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এ দিনের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, স্বপন দাশগুপ্ত, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, তাপস রায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, মহানায়কের পরিবারের সদস্য এবং শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংস্কৃতিক জগতের অনেকেই আছেন যাঁরা এখনও মহানায়ককে আদর্শ মেনে পথ চলতে চান। তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাই, মহানায়কের প্রয়াণদিবসে আমরা প্রাথমিক আলোচনায় ঠিক করেছিলাম যে, যেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল সেখানেই আমরা তাঁকে হৃদয় থেকে স্মরণ করব এবং তাঁকে নিয়ে আলোচনা করব। পরিবারের অনুমতি নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
জন্মশতবর্ষ ও গুচ্ছ গুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা
মহানায়কের প্রয়াণদিবসের পাশাপাশি তাঁর আসন্ন জন্মদিন এবং আগামী দিনের নানা পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মদিন অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালনের কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের শুভসূচনা হতে চলেছে।
শুভেন্দুর কথায়, “সংস্কৃতিক জগতের বহু শিল্পীই আমাকে মহানায়কের জন্মদিন বড় আকারে উদ্যাপন করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জন্মশতবর্ষ পালনের বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হবে।” এই সময়কালের মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি:
১. উত্তমকুমারের নামে ফিল্ম সেন্টার: মহানায়কের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এবং সংস্কৃতি চর্চার প্রসারে তাঁর নামাঙ্কিত একটি নতুন ‘ফিল্ম সেন্টার’ তৈরি করা হবে।
2. উত্তম মঞ্চের সংস্কার: কলকাতা পৌরসভা পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘উত্তম মঞ্চ’-কে আধুনিক উপায়ে নতুন করে সংস্কার করার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।
3. প্রস্তুতি কমিটি গঠন: খুব শীঘ্রই নন্দন বা রবীন্দ্র সদনে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিজে পৌরোহিত্য করবেন। সেখান থেকেই জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের মূল প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হবে।
তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে জানান, এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ এবং উদ্যাপনের প্রতিটি পদক্ষেপ মহানায়কের পরিবারের পূর্ণ অনুমতি ও সম্মতি নিয়েই পরিচালিত হবে।
বাঙালির হৃদয়ে আজও অমলিন ‘মহানায়ক’
ভবানীপুরের সাধারণ ঘরের ছেলে অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘উত্তমকুমার’ হয়ে ওঠার ইতিহাস আজও বাংলা সিনেমার সোনালী অধ্যায়। কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে আপামর বাঙালি আজও তাঁকে স্মরণ করে। চলচ্চিত্র জীবনের শুরুতে ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ তকমা পেলেও নিজের অদম্য জেদ ও অতুলনীয় অভিনয়ের দক্ষতায় ১৯৫৩ সালের ‘সাড়ে ৭৪’ ছবির পর তিনি সুচিত্রা সেনকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করেছিলেন বাংলা সিনেমার এক স্বর্ণযুগ। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘ঝিন্দের বন্দী’ বা ‘সপ্তপদী’র মতো মাস্টারপিস ছবিতে তাঁর রেখে যাওয়া অভিনয়ের মাপকাঠি আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান অনুপ্রেরণা। ১৯৮০ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দর’ ছবির শুটিং চলাকালীন তাঁর প্রয়াণ ঘটেছিল। আজ মৃত্যুর ৪৭ বছর পরেও কেওড়াতলা মহাশ্মশান, ভবানীপুরের বাসভবন থেকে শুরু করে আপামর বাঙালির মানসপটে সমানভাবে উজ্জ্বল মহানায়ক উত্তম কুমার।