নিট উত্তপ্ত কলকাতায় বড় মোড়! পুলিশের অনুমতি না পেয়ে শেষ মুহূর্তে কোন বড় সিদ্ধান্ত নিল সিজিপি?

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা চরম অসন্তোষের আঁচ এবার এসে পড়েছে কলকাতায়। ২৬ দিন পর মধ্যরাতে সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও এবং দোষীদের শাস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিলেও, নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবার এই আন্দোলনকে কলকাতায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি মিছিলের অনুমতি চেয়ে জয়েন্ট সিপি-র কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে লালবাজারের পক্ষ থেকে সেই কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত রুটে মিছিল করতে পারছে না CJP।

নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ককরোচ জনতা পার্টির কলকাতার সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানান, “একটা মিস কমিউনিকেশন বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। কোথাও কোথাও ভুল বার্তা যাচ্ছিল বলেই এত রাতে এই ভিডিও করতে হচ্ছে। আমাদের কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত যে মিছিল করার কথা ছিল, পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় আমরা তা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছি। তবে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল হচ্ছে। আমাদের পেজ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা যোগ দিতে ইচ্ছুক, তাঁরা সেখানে যেতে পারেন। তবে সেখানে ককরোচ জনতা পার্টি, কলকাতার কোনো নির্দিষ্ট ব্যানার রাখা হচ্ছে না।”

বামেদের মিছিলে পরোক্ষ সমর্থন সিজিপি-র
এ দিনই বাম ছাত্র সংগঠন ও ‘ছাত্র সমাজ’-এর যৌথ ডাকে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি বিশাল মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে। দুপুর আড়াইটে থেকে শুরু হতে চলা এই মিছিলে ‘স্টুডেন্টস অফ বেঙ্গল’ নামক একটি সংগঠনেরও সামিল হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত সেই সংগঠনের মিছিলকেই সমর্থন জানাচ্ছে CJP। অর্থাৎ, কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত তাদের পৃথক মিছিলের পরিকল্পনা বাতিল হলেও বামেদের এই কর্মসূচির হাত ধরেই প্রতিবাদ জারি রাখছে তারা।

পাশাপাশি, বামপন্থী ৮টি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ইতিমধ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্তকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক থেকেও সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছু হঠছে না CJP।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *