আইফোন অর্ডার করে পেলেন দাড়ি গজানোর তেল! ফ্লিপকার্টকে ১ লক্ষের বেশি জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ আদালতের!

ফ্লিপকার্ট থেকে সাধের আইফোন অর্ডার করে পার্সেল খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ! আইফোনের বদলে বাক্সে এল দাড়ি গজানোর তেল (Beard Growth Oil)। এই ঘটনায় প্রতারিত হয়ে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হন এক ক্রেতা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তি পেলেন তিনি। ক্রেতার পক্ষে রায় দিয়ে আদালত ফ্লিপকার্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে যৌথভাবে ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা মূল্যের অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, মানসিক হয়রানি ও আইনি খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৭০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল। মুম্বইয়ের পোওয়াই এলাকার এক বাসিন্দা ফ্লিপকার্টের মাধ্যমে ‘নো-কস্ট ইএমআই’ সুবিধা ব্যবহার করে ১,১১,৭৯৩ টাকা দামের একটি অ্যাপল আইফোন ১৪ প্রো (১২৮ জিবি) কিনেছিলেন। অর্ডার অনুযায়ী আলাদাভাবে চার্জার ও কভার যথাসময়ে এসে পৌঁছালেও, মূল পার্সেলটি খোলার পরেই আসল চাঞ্চল্য ছড়ায়। দামি স্মার্টফোনের পরিবর্তে বাক্সে মেলে স্রেফ কিছু প্যাকিং সামগ্রী এবং দাড়ি গজানোর তেল।

ভুক্তভোগী ক্রেতার অভিযোগ, ২০২৩ সালের এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যে ফ্লিপকার্টের কাস্টমার কেয়ারে বারবার যোগাযোগ করা এবং সমস্ত প্রমাণপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিটি কোনো সুরাহা করেনি। উল্টে কোনো অর্থ ফেরত বা পণ্য বদল না করেই অভিযোগগুলিকে বারবার ‘নিষ্পন্ন’ (Resolved) হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
মুম্বইয়ের একটি উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (অতিরিক্ত ডিসিএফ) এই মামলায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো ধরনের প্রতিকার ছাড়াই গ্রাহকের অভিযোগ বারবার ঝুলিয়ে রাখা বা এড়িয়ে যাওয়া অন্যায্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের শামিল। কমিশন পরিষ্কার জানিয়েছে, কোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম কেবল পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করেই নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। বিশেষ করে ভুল পণ্য সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ দ্রুত তদন্ত না করা এবং সমস্যার সমাধান না করা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ঘাটতি প্রমাণ করে।

বিচারপর্বে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালু রিটেইল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চুক্তি অনুযায়ী সঠিক পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থতাও প্রমাণিত হয়। ফলস্বরূপ, প্ল্যাটফর্ম এবং বিক্রেতা উভয়কেই এর জন্য দায়ী করে আদালত ৪৫ দিনের মধ্যে নিচের নির্দেশগুলি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে:

পণ্যের আসল মূল্য ১,১১,৭৯৩ টাকা এবং সঙ্গে ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল থেকে শুরু করে টাকা ফেরত পাওয়ার দিন পর্যন্ত বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ।

মানসিক যন্ত্রণা ও হয়রানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০,০০০ টাকা।

মামলা পরিচালনার খরচ বাবদ ২০,০০০ টাকা।

এদিকে, এই মামলায় অন্যতম পক্ষ ‘অ্যাপল ইন্ডিয়া’ একটি লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছিল যে, স্বাধীন ডিলার ও রিসেলারদের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই এই দায় তাদের নয়। আদালতের বিচারকমণ্ডলী তাদের এই যুক্তি মেনে নিয়ে অ্যাপল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগটি খারিজ করে দেন। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, এই বিরোধটি মূলত ভুল পণ্য সরবরাহ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বহীনতাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *