অফিসে শর্টস পরে আসার অনুমতি! টোকিওতে পুরুষদের এই বিশেষ ছাড়ে কেন চড়ল মহিলাদের পারদ?

দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান গরম এবং তাপপ্রবাহের জেরে পারদ প্রায়শই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলছে। এই অসহ্য গরমে অফিসিয়াল কাজ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে পুরুষ কর্মীদের জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে খোদ নগর প্রশাসন। জাপানের রাজধানী শহর টোকিওতে পুরুষদের অফিসে ছোট হাফপ্যান্ট বা শর্টস পরে আসার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের এমন পদক্ষেপে পুরুষ কর্মীরা দারুণ খুশি হলেও, এই নিয়ম ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। অফিসে পুরুষদের শর্টস পরে আসার এই ছাড় মেনে নিতে পারেননি মহিলা কর্মীদের একাংশ।
মহিলাদের আপত্তির মূল কারণ কী?
পুরুষরা শর্টস পরে অফিস আসায় একদিকে যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনই নারীদের একাংশ এর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে সামনে এনেছেন এক অদ্ভুত সমস্যা—যাকে বলা হচ্ছে ‘লেগ হেয়ার হ্যারাসমেন্ট’ (Leg Hair Harassment)।
তাঁদের বক্তব্য, পুরুষ কর্মীরা সারাদিন অফিসে শর্টস পরে কাজ করলে তাঁদের পা উন্মুক্ত থাকবে এবং লোমশ পা দেখতে হবে, যা মহিলা সহকর্মীদের একাংশের কাছে একধরনের মানসিক অস্বস্তি বা হয়রানি বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া আরও একটি বড় প্রশ্ন তুলেছে মহিলা মহল—যদি পুরুষ কর্মীরা গরমে এই ধরনের পোশাকের স্বাধীনতা পেতে পারেন, তবে মহিলা কর্মীরা কেন সারাদিন টাইট পোশাক বা লং স্কার্ট পরে অফিস করতে বাধ্য হবেন? গরমে তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে কেন কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না? পুরুষদের এই বিশেষ সুযোগ দেওয়ায় কার্যতই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মহিলা কর্মীরা।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত?
জানা গিয়েছে, জুলাই মাসের প্রবল গরমে টোকিও সহ জাপানের সিংহভাগ অংশ পুড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টোকিও কুল বিজ ক্যাম্পেন’ (Tokyo Cool Biz Campaign)। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা এবং তীব্র গরমে কর্মীদের কাজের পরিবেশ কিছুটা আরামদায়ক করে তোলা। আর এরই অংশ হিসেবে পুরুষদের অফিসে শর্টস পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিবিসি (BBC)-র প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই খবরটি এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।