হাজার কোটির সাইবার দুর্নীতি! চিনের সঙ্গে যোগসাজশ, আসাম থেকে গ্রেপ্তার যুবককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দেশজুড়ে ১,০৯০টি সাইবার অপরাধ এবং প্রায় ১ হাজার ৭১ কোটি টাকার লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গুজরাট অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। ধৃত যুবকের নাম রফিকুল আলম (২৫)। আসামের বরপেটা জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পেরেছে যে, এই সাইবার চক্রের শিকড় সরাসরি চিনের অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
কীভাবে চলত এই জালিয়াতি?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রফিকুল হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে চিনের অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত। স্ক্যানার, ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের সমস্ত তথ্য তাদের সঙ্গেই আদান-প্রদান করা হতো। ডিজিটাল গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ আর্থিক নজরদারি সংস্থাগুলোর চোখ এড়াতে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ভারতজুড়ে ১,৭৫৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এরপর সেই অবৈধ অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত করে চিনে পাচার করা হতো।
ছদ্মবেশে তিনদিন নজরদারি:
গান্ধীনগরের সিআইডি-র সাইবার সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (CCE) জানিয়েছে যে, মহারাষ্ট্র পুলিশ ও সুপ্রিম কোর্টের জাল চিঠির মাধ্যমে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে ডিজিটাল গ্রেপ্তারের একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই এই চক্রের সন্ধান মেলে। এরপর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ভুক্তভোগীদের বিবৃতির ভিত্তিতে সিআইডি-র একটি দল বরপেটা শহরে পৌঁছায়। সেখানে ছদ্মবেশে টানা তিন দিন তার বাড়ির ওপর নজরদারি চালিয়ে অবশেষে প্রযুক্তিগত সরঞ্জামসহ তাকে পাকড়াও করা হয়।
মোবাইলে ২৩টি ক্রিপ্টো ওয়ালেট:
ধৃতের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে মোট ২৩টি ক্রিপ্টো ওয়ালেট উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলোতে প্রায় ১৬ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে। পাশাপাশি ‘চিপ সেলার’ অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং গেমিং অ্যাকাউন্টেরও সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে গুজরাট পুলিশ ও সাইবার সেল যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক চক্রের বাকি যোগসূত্রগুলি খতিয়ে দেখছে।