পরীক্ষা বাতিল হতেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ নয়! নিট-এ দেশজুড়ে দ্বিতীয় হওয়া পানশুল বনসালের সাফল্যের অবিশ্বাস্য মন্ত্র

নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, শাসকপক্ষকে নিশানা করে বিরোধীদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বার্তা দিলেন নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026)-এর অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্কে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী পানশুল বনসাল। সমস্ত রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রতিবাদের ভিড়ে তাঁর স্পষ্ট মত—পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেলে হতাশায় ডুবে না থেকে বা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ না দেখিয়ে, যে বাড়তি সময় হাতে পাওয়া গেছে, তাকে পুরোপুরি পড়াশোনা ও প্রস্তুতির কাজে লাগানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

নিট-ইউজি ২০২৬-এ ৯৯.৯৯৯৯ পার্সেন্টাইল অর্জন করে সর্বভারতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থান দখলকারী পানশুল জানান, প্রথমবার পরীক্ষা বাতিল হওয়ার খবর পাওয়ার পর শুরুতে তিনিও কিছুটা হতাশ হয়েছিলেন। কিন্তু দ্রুত সেই হতাশা কাটিয়ে তিনি পুরো পরিস্থিতিকে নিজের ফলাফল আরও উন্নত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পানশুল বলেন, “পরীক্ষা বাতিলের এক-দু’ঘণ্টা পর আমি বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করি। পরেরবার আরও ভালো ফলাফল করার জন্য আমি মানসিকভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠি। আমি ভেবেছিলাম, কেন আমি মিছিলে বা প্রতিবাদে সময় নষ্ট করতে যাব? তার চেয়ে বরং বাড়িতে নিরিবিলিতে পড়াশোনা করে নিজের দক্ষতা ও স্কোর বাড়ানোই অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”

নয়াদিল্লির গ্রেটার কৈলাসের কেআর মঙ্গলম ওয়ার্ল্ড স্কুলের ছাত্র পানশুল নিটের রি-এক্সামে ৭১৫ নম্বর পেয়ে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।

উল্লেখ্য, স্নাতক স্তরের মেডিকেল কোর্সে ভর্তির জন্য মূল নিট-ইউজি পরীক্ষাটি গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ১২ মে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। বর্তমানে সিবিআই এই পুরো ফাঁসের ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে অত্যন্ত আঁটোসাটো ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত ২১ জুন পুনরায় এই পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ১৬ জুলাই তার ফলাফল প্রকাশিত হয়।

পানশুল জানান, তিনি মূল নিট পরীক্ষায় ৭০৬ নম্বর পেয়েছিলেন, কিন্তু রি-এক্সামের সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর স্কোর বাড়িয়ে ৭১৫-তে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত যে সময় তিনি পেয়েছিলেন, তা কীভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে পানশুল জানান যে তিনি তাঁর নিয়মিত পড়াশোনার রুটিনে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনেননি। তাঁর কথায়, “আমি আমার সময়সূচিতে আলাদা করে কোনো বদল আনিনি। আমি কেবল আমার স্বাভাবিক রুটিনই নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলেছি। আমার মনে হয়েছিল, শেষ দেড় মাসে আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত এবং বাকিটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমি ভেবেছিলাম, কেন অহেতুক নেতিবাচক চিন্তা মাথায় এনে মনসংযোগ নষ্ট করব? সব ভুলে আমার একমাত্র লক্ষ্য পড়াশোনার দিকেই ফোকাস রাখা দরকার ছিল। যা-ই ঘটে, মঙ্গলের জন্যই ঘটে। পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে সমস্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাও আপনাআপনি কেটে যায়।”

এদিকে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যে তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ চলছে, সে বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে পানশুল তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *