“কালীঘাট সূত্রই একদিন দলকে ধ্বংস করবে!” একুশের মঞ্চে ব্রাত্য থাকতেই বিস্ফোরক পোস্ট কল্যাণের

লন্ডভন্ড রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় টানাপোড়েন যেন কিছুতেই থামছে না। দলীয় সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক ধাক্কায় কুড়ি জন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিলেও, যে গুটি কয়েক নেতা চরম সংকটেও সুপ্রিমো মমতার পাশ থেকে সরে দাঁড়াননি—তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হতেই তাঁর গলায় ঝরে পড়ল তীব্র আক্ষেপ ও ক্ষোভের সুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করে তিনি সরাসরি দলের অন্দরের অব্যবস্থা নিয়ে তোপ দেগেছেন।
এদিনের ২১ জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রেখেছিলেন এবং সেখান থেকেই বিরোধী শিবির তথা বিজেপিকে একহাত নেন। কিন্তু সভা শেষের পরেই গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন তিনি। সেখানে তিনি আক্ষেপের সুরে লেখেন, এবারের একুশের মূল বক্তা তালিকা অনুযায়ী সাংসদদের মধ্যে একমাত্র সৌগত রায় ছাড়া আর কারও নাম ছিল না!
এখানেই থেমে থাকেননি কল্যাণ। তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম দুঃসময়ে যখন তিনি নিজে জেলায় জেলায় ঘুরে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের সংঘবদ্ধ ও উজ্জীবিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন দলের বাকি হেভিওয়েট নেতারা গ্রেফতারির ভয়ে ঘরের কোণ থেকেই বের হননি। এই প্রসঙ্গেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি লেখেন, “শেষ দু’মাস ধরে কর্মীদের উজ্জীবিত করতে আমি জেলায়-জেলায় ঘুরেছি। বাকিরা গ্রেফতারির ভয়ে কেউ বের হয়নি। তবে এই কালীঘাট সূত্রই একদিন দলকে শেষ করবে।”
পোস্টে নিজের বক্তব্যের সাফাই দিয়ে কল্যাণ জানান, এদিনের সভায় বক্তা তালিকায় সৌগত রায়ের পাশাপাশি উপাসনা ও প্রিয়াঙ্কার নাম থাকলেও তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন। সেই কারণেই তিনি বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে সভামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসে পৌঁছানোয় তিনি সম্মানার্থে নিজের বক্তব্য থামিয়ে দেন। পরবর্তীতে দলীয় সুপ্রিমো মমতার বিশেষ অনুমতি নিয়েই তিনি পুনরায় নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ করেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বুগত্য স্বীকার করলেও দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কল্যাণের দূরত্ব ও সংঘাতের ইতিহাস নতুন নয়। অতীতে তাঁর হাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলা অন্য আইনজীবীকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যেই অভিষেককে চড়া সুরে আক্রমণ করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে দলীয় হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িক প্রশমিত হলেও, একুশে জুলাইয়ের ঠিক পরপরই কল্যাণের এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে ফের নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা ও জল্পনার সৃষ্টি করেছে।