“সংসদ ভেস্তে দিতে পড়ুয়াদের হাতিয়ার করছেন রাহুল!” প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভের পরেই চরম আক্রমণ ধর্মেন্দ্র প্রধানের

বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। NEET প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়েছেন। তারপরও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনের নামে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেন। এই নিয়ে এবার রাহুলকে বিঁধলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছাত্রদের সমস্যার সমাধান লক্ষ্য নয়, সংসদের বাদল অধিবেশনকে ব্যাহত করতে রাহুলরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, NEET ইস্যুতে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত কেন্দ্র।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরারা। এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে রাহুলকে নিশানা করে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, “লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস আবারও নির্লজ্জভাবে ছাত্রছাত্রীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংসদের বাদল অধিবেশনে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়েছে এবং নিরাপত্তা বিধিও উপেক্ষিত হয়েছে।”
‘ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার সমাধান উদ্দেশ্য নয়’
রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্য যে ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার সমাধান নয়, সেকথা উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, “সরকার যখন এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল, তখনও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক বিতর্কের পরিবর্তে রাজনৈতিক নাটককেই বেছে নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য কখনওই ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার সমাধান ছিল না, বরং রাজনৈতিক শিরোনাম তৈরি করার জন্য পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলা ছিল।” তিনি আরও বলেন, “রাহুল গান্ধীর কাছে এটি ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের বিষয় নয়। আলোচনার সমস্ত বাস্তবসম্মত পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও তিনি বারবার সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।”
আলোচনায় প্রস্তুত কেন্দ্র
NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্র যে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত, সেকথা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, “আমাদের সরকার NEET-সহ যুবসমাজের প্রতিটি প্রকৃত উদ্বেগ নিয়ে সংসদের অভ্যন্তরে বিস্তারিত আলোচনায় ১০০ শতাংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের ছাত্রছাত্রীরা রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য।”
দেশের পড়ুয়াদের উত্তর দিতে সরকার যে দায়বদ্ধ সেকথা জানিয়ে শেষে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, “ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শুধু প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের আমরা উত্তর, সংস্কার এবং কৈফিয়ত দিতে দায়বদ্ধ। আর তা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
রাহুলকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়েরও
আন্দোলনস্থলে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। রাহুলের ‘মুখোশ’ খুললেন তিনিও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর রাহুল বলেন, সংসদে প্রশ্নফাঁস ও সেই সংক্রান্ত ইস্যুতে আলোচনা হলে আন্দোলন থামানো হবে। সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে জানানো হয়, তাঁর দাবি মানা হবে। সঙ্গে সঙ্গে রাহুল আরও একটি শর্ত জুড়ে দেন। রাহুল দাবি করেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। আমি তাঁকে বলি, বিরোধী দলনেতা হিসেবে এটা আপনাকে শোভা দেয় না।”