‘ভেবেছিলাম উন্মত্ত জনতা সংসদে ঢুকে আমাদের মারবে!’ নিট আন্দোলনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন কঙ্গনা রানাওয়াত

সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লির রাজপথ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে যন্তর মন্তর এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। আন্দোলন দমাতে কেন্দ্র প্রায় ৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করলেও ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। বাইরে যখন এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, তখন সংসদের অন্দরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন মান্ডির বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত।
ভেতরে কেমন ছিল পরিবেশ? জানালেন কঙ্গনা
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারকা সাংসদ জানান, সেই সময় সংসদ ভবনের ভেতরে এক মারাত্মক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আতঙ্কের সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। কঙ্গনা বলেন:
“আমরা সমস্ত সাংসদেরা তখন ভেতরে উপস্থিত ছিলাম। আতঙ্কে সকলেই ভেবেছিলাম, এই উন্মত্ত জনতা হয়তো সংসদ ভবনের ভেতরে ঢুকে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে বসবে!”
দিল্লি পুলিশের প্রশংসায় কঙ্গনা
আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে যখন দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে—এমনকী অনুরাগ কাশ্যপ ও অরিজিৎ সিংয়ের মতো সেলিব্রিটিরাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিলেন কঙ্গনা। দিল্লি পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুলিশ যেভাবে সাধারণ মানুষের সামনে সুরক্ষা কবচ হয়ে দাঁড়িয়ে বড় ধরনের ক্ষতি এড়িয়েছে, তার জন্য তাঁরা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
আন্দোলনকারীদের তীব্র আক্রমণ
অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল ও রাজপথের বিক্ষোভকে নিশানা করে কঙ্গনা স্পষ্ট জানান, কোনো বিষয়ে বিশদ আলোচনার জন্যই সংসদের অধিবেশন ডাকা হয়। কিন্তু আলোচনার পথ ছেড়ে এইভাবে চাপ সৃষ্টি করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মন্তব্য:
এটি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার।
কাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হবে বা কাকে বরখাস্ত করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল সরকারেরই রয়েছে।
তাঁর কড়া বার্তা, “এত আত্মবিশ্বাস থাকলে নির্বাচন লড়াই করে আসাই শ্রেয়।” * এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, দিনশেষে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির ভাবধারাতেই আস্থা খুঁজবে, কারণ এটিই দেশের আসল মূল শিকড়।
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে সমর্থন
এনডিএ-র সংসদীয় বৈঠকে নিট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা মন্তব্যেরও পুনরাবৃত্তি করেন কঙ্গনা। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যে সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার, মোদীর সেই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি জানান, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের স্পষ্ট দিশা রয়েছে। তবে দেশজুড়ে চলা ক্ষোভের মাঝে দাঁড়িয়ে কঙ্গনার এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং পুলিশি পদক্ষেপের জোরালো সমর্থন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।