মার্চের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন, DA নিয়েও বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর উদ্যোগ নিতে চলেছে সরকার। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই হিসেবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি, মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

১. চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন চালুর টার্গেট

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন চালুর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সেই হিসেব অনুযায়ী আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই তা বাস্তবায়িত হতে পারে। সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই এর ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (Terms of Reference) তৈরি হয়ে গেছে। সেটি চূড়ান্ত হলেই খুব শীঘ্রই সরকারিভাবে কমিশন গঠন করা হবে।

পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২০ সালে ষষ্ঠ পে কমিশন দেওয়া হলেও মাঝপথে ডিএ আটকে দেওয়া হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়েও তিনি যুক্ত ছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই প্রথম বাজেটে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা সব মিলিয়ে ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন।

২. ডিএ ফারাক ও বকেয়া মেটানোর আশ্বাস

কেন্দ্রীয় মহার্ঘ ভাতা এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রাপ্ত ডিএ-র মধ্যকার ফারাক নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র এই ব্যবধান ধীরে ধীরে মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং সময়মতো সমস্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ভেবেছিলেন একলপ্তে ৪২ শতাংশ দিয়ে দেব, আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ১০ শতাংশের কথাও বলা হচ্ছিল। ৪২ বা ১০— কোনোটিই দিইনি, হিসেব করে দিয়েছি। আগামী দিনে বাকিটা মেকআপ করে দেব।”

৩. অতীতের বঞ্চনা ও বিদ্যুৎ কর্মীদের বার্তা

রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপট টেনে অতীতে তৎকালীন সরকারের সময় পে কমিশন ও ডিএ বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন শুভেন্দু। এদিন বিদ্যুৎ ভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদেরও অতীতের সমস্ত ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ কাটিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও মন খুলে কাজ করার নির্দেশ দেন। সবমিলিয়ে, সরকারি কর্মচারীদের মন জয় করতে বর্তমান সরকারের এই বড় পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *