অভিষেকের জেল শীঘ্রই?-অভিষেককে চরম চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

একুশের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেতার করা মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাজ্য বিধানসভার ফ্লোর থেকে সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে সুর চড়ানোর পাশাপাশি বিধানসভার অন্দরে হুলুস্থুল কাণ্ড ও কুণাল ঘোষকে মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল উত্তাপ ছড়িয়েছে।
অভিষেকের ‘৩১-এর হিসাব’ মন্তব্যের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
গতকালের একুশের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দেগে বলেছিলেন, “নোটবুকগুলো এক এক করে ঠিক নিয়ে নেব। ২০৩১-এ সব হিসাব হবে।” পাশাপাশি ফুটপাতে থেকে লড়াই করে বিজেপিকে হারানোর হুংকারও দিয়েছিলেন তিনি।
বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেই মন্তব্যকেই কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “একজন বলেছেন নোট-খাতা সব খুলে রাখো, ৩১-এ সব হিসাব হবে। আরে, ততদিন আপনি বাইরে থাকলে তবে তো হিসাব হবে!” এরপর অভিষেককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আড়াই হাজার লোক নিয়ে বড় বড় কথা! ক্ষমতা থাকলে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ান। ৪ মের পরে ডায়মন্ড হারবার গিয়েছেন? জোকা পেরিয়েছেন?” এমনকি ফলতার প্রার্থী প্রসঙ্গ টেনে ‘গোরুর গাড়ির হেডলাইট’ বলে তীব্র উপহাসও করেন তিনি। হুংকার দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম-নিশানা পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, এটা আমার দায়িত্ব।” ডায়মন্ড হারবারের উন্নয়ন মডেলের আড়ালে গণতন্ত্র লুটের সমস্ত দুর্নীতি সামনে এনে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
বিধানসভায় তুলকালাম! মার্শাল ডেকে বের করা হলো কুণাল ঘোষকে
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবারের বিধানসভা অধিবেশন এক অভূতপূর্ব ও উত্তাল পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল। বিধানসভার অন্দরে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামানের বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ নিজের আসন ছেড়ে তাঁর কাছে চলে যান মমতাপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ। দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
-
মুহূর্তে ওয়েলে নেমে আসেন মমতাপন্থী ও ঋতব্রত শিবিরের বিধায়করা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপির বিধায়করাও ওয়েলে নেমে আসেন, তবে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ হস্তক্ষেপে তাঁরা নিজেদের আসনে ফিরে যান।
-
স্পিকার রথীন বসু বারবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে গিয়ে বসার নির্দেশ দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন এবং বাকি বিধায়কদের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।
-
বাধ্য হয়ে স্পিকার কুণাল ঘোষকে কক্ষ থেকে বাইরে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নিজে থেকে বের হতে রাজি না হওয়ায় মার্শাল ডেকে রীতিমতো চ্যাংদোলা করে বিধানসভা থেকে বাইরে বের করা হয় কুণাল ঘোষকে।
একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে বিধানসভার অন্দরে বিধায়ক-নেতাদের হাতাহাতি ও হট্টগোলে রাজ্য রাজনীতি এখন চরম সরগরম।