“পেরেক-যুক্ত লাঠি দিয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ!”-CJP-আন্দোলন মামলায় কঠোর দিল্লি হাইকোর্ট

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে রাজধানী দিল্লিতে চলা ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বড় পদক্ষেপ করল দিল্লি হাইকোর্ট। বুধবার এই মামলার শুনানিতে আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সুরক্ষিত বা সংরক্ষণ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতে আইনজীবীদের তীব্র বাদানুবাদ
বুধবার প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতেই আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবীরা বিস্ফোরক সব অভিযোগ তোলেন।
-
তাঁদের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ও নারীদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে। এমনকি নারীদের শ্লীলতাহানি এবং তাঁদের গোপনাঙ্গে আঘাত করার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়।
-
আবেদনকারীদের আইনজীবীদের দাবি, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এমনকী পেরেক-যুক্ত লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে এবং সে সময় অনেক পুলিশ কর্মীর গায়ে কোনও অফিশিয়াল ব্যাজ পর্যন্ত ছিল না। এই সমস্ত দাবির সপক্ষে আদালতে ১১০টি প্রামাণ্য ভিডিও থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এস রাজু সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা যুক্তি দেন যে, আন্দোলনকারীরা অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছিলেন। সংসদ অভিযান রুখতে গিয়ে খোদ পুলিশ কর্মীরাই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এএসজি রাজুর দাবি, এই ধরনের মামলার মূল উদ্দেশ্য নিছক ‘আলোচনায় আসা’ বা ‘প্রচার পাওয়া’। যদিও এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পালটা প্রশ্ন তোলে, “কীভাবে আপনারা বলতে পারেন যে এটি প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা একটি আবেদন?”
সাংবিধানিক অধিকার বনাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষা
আবেদনকারীদের আইনজীবীদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও জমায়েত করা ভারতীয় সংবিধান প্রদত্ত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতেই পারে, কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণের নামে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বর্বরোচিত আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর বিপরীতে দিল্লি পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, ঘটনাস্থলে নিষেধাজ্ঞা (Section 144) জারি থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে জমায়েত করা হয়েছিল এবং সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশকে বাধ্য হয়ে পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীদের গুরুতর অভিযোগ এবং পুলিশের পাল্টা দাবির সত্যতা কোন পর্যায়ে ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে খতিয়ে দেখতেই আদালত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপে আদালতের নজর কোন দিকে থাকে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।