দাউ দাউ করে জ্বলছে চুল্লি, ঠাকুমার মৃতদেহ জ্বলন্ত চুল্লিতে ঢোকাতেই ঝাঁপ নাতির

বৈদ্যুতিক চুল্লির ভিতরে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে মৃতদেহ। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করতে চলেছে ট্রে-টিকে। ঠিক সেই মুহূর্তে ঠাকুমার নিথর দেহের ওপর কাঁদতে কাঁদতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন নাতি! সোমবার রাতে নদিয়ার নবদ্বীপ শ্মশানের এই ভয়াবহ ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শ্মশানকর্মী ও আত্মীয়দের তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে নাতিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আগুনের তাপে তাঁর শরীর ঝলসে গিয়েছে।
১. চুল্লির ভেতরে ঝাঁপ দেওয়ার রোমহর্ষক দৃশ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার গেদে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা এক বৃদ্ধার দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যু হয়। নিয়মমতো তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে নবদ্বীপ শ্মশানে এসেছিলেন তাঁর নাতি ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মৃতদেহ যখন বৈদ্যুতিক চুল্লির ট্রলিতে চাপিয়ে ভেতরে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া চলছে, সেই সময়ই আচমকা সবার অজান্তে ট্রলির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ইন্দ্রজিৎ।
ট্রলিটি তখন প্রায় চুল্লির মুখ পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। নাতিকে এমন মারাত্মক পদক্ষেপে ঠাকুমার দেহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখে শ্মশানজুড়ে আত্মীয়-পরিজন ও উপস্থিত সাধারণ মানুষ হইচই ও চিৎকার শুরু করে দেন।
২. অল্পের জন্য রক্ষা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাতি
মুহূর্তের মধ্যে শ্মশানকর্মী ও উপস্থিত স্বজনরা সাহসিকতার সঙ্গে ছুটে গিয়ে চুল্লির মুখ থেকে টেনে বের করে আনেন ইন্দ্রজিৎকে। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের তীব্র তাপে তাঁর চোখ, মুখ এবং শরীরের একাধিক অংশ গুরুতরভাবে ঝলসে গিয়েছে। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার আকস্মিকতায় শ্মশানের উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে যান। শ্মশানকর্মীদের একাংশের কথায়, “খুব জোর বেঁচে গিয়েছেন ওই যুবক, নতুবা বড় ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।”
৩. কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত? মদ নাকি তীব্র আবেগ?
ঘটনার আকস্মিকতায় প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন কাজ করলেন ইন্দ্রজিৎ? এর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি অংশের দাবি, ঘটনার সময় ওই যুবক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। আবার অন্য একটি মহলের মতে, ইন্দ্রজিৎ স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ছিলেন। প্রিয় ঠাকুমার আকস্মিক প্রয়াণ ও তাঁকে চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলার তীব্র মানসিক অভিঘাত থেকেই তিনি হয়তো এমন বেহুঁশ বা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন। ঘটনার তদন্ত ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।