তহবিলে টান নাকি বড় ছক? ভারতের ডিপটেক ও স্পেসটেক ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

তহবিলের পরিমাণে কিছুটা ভাটা দেখা দিলেও, ভারতের উদীয়মান ডিপটেক (DeepTech) ইকোসিস্টেমের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও মনোভাব আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী রয়েছে। এই খাতে লেনদেনের গতিপ্রকৃতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং নতুন বহু কোম্পানি এই সেক্টরে প্রবেশ করছে। বিনিয়োগকারীরা ‘মানি কন্ট্রোল’-কে জানিয়েছেন যে, এই আশাবাদের মূল ভিত্তি হলো সরকারের ১ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ‘আরডিআই’ (RDI) তহবিল।

মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন যুগের সূচনা
হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক স্পেসটেক স্টার্টআপ ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর সাম্প্রতিক সফল মিশন কেবল একটি কক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ ছিল না; এটি ভারতের বেসরকারি স্পেসটেক ইকোসিস্টেমে পুঁজির প্রবাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ১.১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারতের প্রথম স্পেসটেক ইউনিকর্ন হিসেবে স্কাইরুট এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করছে।

তবে, তাদের এই সাফল্যের পথটি মসৃণ ছিল না। স্কাইরুট যখন তাদের রকেট উৎক্ষেপণ নিয়ে ব্যস্ত, তখন তাদের তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘায়িত হয়। নতুন বিনিয়োগকারীরা মূলধন-নিবিড় এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক লাভের এই ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করতে কিছুটা সতর্ক ছিলেন। ফলস্বরূপ, তাদের ৬০ মিলিয়ন ডলারের সর্বশেষ রাউন্ডের বড় অংশই এসেছে পুরনো ও বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। একই পথে হেঁটেছে অন্য এক স্পেসটেক স্টার্টআপ ‘পিক্সেল’-ও; তারাও অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠপোষকদের ওপর বেশি নির্ভর করেছে।

মূল চ্যালেঞ্জ কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফান্ড সংগ্রহের চিত্রটি ভারতের ডিপটেক খাতের একটি বৃহত্তর বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। এখানে সমস্যা আদতে মূলধন বা আত্মবিশ্বাসের অভাব নয়, বরং বড় অঙ্কের বাহ্যিক তহবিল তোলার মতো যথেষ্ট পরিপক্ক ও প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানির সংখ্যা এখনও বেশ কম। এর ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরনো বিনিয়োগকারীদেরই পরবর্তী রাউন্ডের বড় অংশ বহন করতে হচ্ছে।

‘ভেঞ্চার ইন্টেলিজেন্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (H1) ডিপটেক স্টার্টআপগুলি প্রায় ৬১০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫% কম)। তবে বিনিয়োগকারীদের মতে, এই পতন খাতের প্রতি দুর্বল আস্থার লক্ষণ নয়, বরং বড় আকারের গ্রোথ-স্টেজ রাউন্ডের সাময়িক অভাবকেই এটি নির্দেশ করে।

প্রারম্ভিক পর্যায়ের ডিপটেক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওম ভেঞ্চারস’-এর প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার চেতন মেহতা জানান, “আমরা এখন প্রারম্ভিক পর্যায়ের অর্থায়ন বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। কিছু বড় অঙ্কের ফান্ডিং রাউন্ড সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় এই পতন দেখা দিয়েছে। তবে আগামী মাসগুলোতে চিত্রটি দ্রুত উন্নত হবে।”

আসছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ
ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মেগা ফান্ডিং রাউন্ড চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। ইভি (EV) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘আথার এনার্জি’ এবং ‘রিভার’ যথাক্রমে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ও ৮৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, স্পেসটেক স্টার্টআপ ‘পিক্সেল’ (৮০-১০ সেমি মিলিয়ন ডলার) এবং ‘অগ্নিকুল কসমস’ (৫০-৭৫ মিলিয়ন ডলার)-এর ফান্ড সংগ্রহের প্রক্রিয়াও বাজারে চালু রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই বড় ডিলগুলি সম্পন্ন হলে সামগ্রিক তহবিলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বাজার আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *