আইপিও-তেই ছক্কা! প্রথম দিনেই প্রায় ১০০ শতাংশ লাফ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পকেটে এল লাখ লাখ টাকা

খুব কম সংস্থাই এমন নজির গড়তে পারে, যা মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশের দিনেই করে দেখাল একটি এসএমই (SME) কোম্পানি। লেনদেন চলাকালীন এই সংস্থাটি বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক মূলধন রাতারাতি দ্বিগুণ করে দিয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মিলওয়ার্কস টেকনোলজি (Millworks Technology) মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে এক বিস্ফোরক ও ঐতিহাসিক অভিষেক ঘটিয়েছে। ইস্যু মূল্যের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ প্রিমিয়ামে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর, স্টকটি লাফিয়ে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
দুর্দান্ত সূচনা ও তালিকাভুক্তির পরিসংখ্যান
২১শে জুলাই মঙ্গলবার বিএসই (BSE) এসএমই প্ল্যাটফর্মে মিলওয়ার্কস টেকনোলজির শেয়ারগুলি ৬২৮.৯০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয়, যা এর ৩৩১ টাকা ইস্যু মূল্যের থেকে প্রায় ৯০% বেশি। এরপরে ট্রেডিং সেশন চলাকালীন স্টকটির দাম বেড়ে ৬৬0.৩০ টাকায় পৌঁছায়।
কোম্পানির এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এর ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)-এর প্রতি বাজারের বিপুল সাড়া। গত ১৪ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলা বিডিং পর্বে এই আইপিওটি মোট ১৯৩.১৪ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল।
কোন বিভাগে কেমন সাড়া মিলেছিল?
মোট ১৬০.৩৪ কোটি টাকার এই আইপিও-তে ৩৫,১৮,৮০০টি শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ৬৭,৯৬,৩০,০০০টি শেয়ারের জন্য শক্তিশালী দরপত্র জমা পড়েছিল।
খুচরা বিনিয়োগকারী (Retail Investors): এই বিভাগে চরম উন্মাদনা দেখা যায় এবং তাঁদের সংরক্ষিত অংশ ২১৬.৪৬ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়।
অ-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (NII): এই কোটাও ১৯৪.০৫ গুণ বুকিং হয়েছিল।
এই আইপিও-তে সম্পূর্ণ ৪৮.৪৪ লক্ষ ইক্যুইটি শেয়ারের একটি নতুন ইস্যু (Fresh Issue) ছিল এবং এতে কোনো ‘অফার-ফর-সেল’ (OFS) অংশ রাখা হয়নি। শেয়ার প্রতি প্রাইস ব্যান্ড ৩১৫ থেকে ৩৩১ টাকার মধ্যে ধার্য করা হয়েছিল। লট সাইজ ছিল ৪০০ শেয়ারের, তবে খুচরা বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম দুটি লটে (৮০০ শেয়ার) আবেদন করতে হতো, যার জন্য সর্বোচ্চ মূল্যসীমা অনুযায়ী মোট ২,৬৪,৮০০ টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন ছিল।
কীভাবে বিনিয়োগকারীদের টাকা দ্বিগুণ হলো?
নিয়ম অনুযায়ী এই আইপিওতে ন্যূনতম ৮০০টি শেয়ার কিনতে হয়েছিল। প্রতি শেয়ারের ইস্যু মূল্য ৩৩১ টাকা হওয়ায় মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ২,৬৪,৮০০ টাকা। ট্রেডিং চলাকালীন স্টকটির দাম বেড়ে যখন ৬৬০.৩০ টাকায় পৌঁছায়, তখন ওই ৮০০টি শেয়ারের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৫,০৩,১২০ টাকা। এর ফলে মাত্র একদিনেই বিনিয়োগকারীদের নিট লাভ হয়েছে ২,৩৮,৩২০ টাকা।
আইপিও থেকে প্রাপ্ত তহবিলের ব্যবহার ও জিএমপি
তালিকাভুক্তির আগে থেকেই বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমান ছিল যে এই সংস্থার পারফরম্যান্স দারুণ হতে পারে। ইনভেস্টরগেইন এবং আইপিও ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী, এর গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা জিএমপি (GMP) শেয়ার প্রতি প্রায় ৩৯৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা ১২০ শতাংশ পর্যন্ত লাভের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে এসএমই আইপিও-র নিয়মানুযায়ী তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ সীমা ৯০ শতাংশ নির্ধারিত থাকে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের রাউন্ডে রাজস্থান গ্লোবাল সিকিউরিটিজ এবং এভারগ্রো ক্যাপিটাল অপরচুনিটিজ ফান্ড-সহ মোট ৯টি সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা তুলেছিল কোম্পানিটি। নতুন এই আইপিও থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং অপারেশনাল কাজে লাগানো হবে। যার মধ্যে প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ৬১.০৩ কোটি টাকা, কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনে ৮১.৫০ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ সাধারণ কর্পোরেট উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে।