‘দলের নাম করে আটকানো হচ্ছে বাস!’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভিড় কম হওয়া নিয়ে বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রতর

আসল তৃণমূল কংগ্রেস কারা—এই প্রশ্ন নিয়ে লড়াই এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনে ময়দানে মুখোমুখি অবস্থান নেয় ঘাসফুল শিবিরের দুই ভিন্ন অংশ—কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির। শহিদ দিবস পালনে কোন শিবির এগিয়ে রইল, তা নিয়ে চারদিকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তুলনা। আর এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘ব্যক্তি নয়, আমরা একটি টিম’
এদিন কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিড়লা তারামণ্ডলে শহিদ দিবস পালিত হলেও, ঋতব্রত ও তাঁর অনুগামীরা মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির সামনে এই দিবস পালন করেন। দল ভাঙার পর থেকেই ঋতব্রত দাবি করে আসছেন যে তাঁরা কোনো একক ব্যক্তিতে বিশ্বাস করেন না, তাঁরা একটি সম্মিলিত দল বা ‘টিম’। এদিনও সেই একই সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। টিভি৯ বাংলার প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এখানে ঋতব্রত ফ্যাক্টর নয়। এটা একটা টিম।”
ভিড় কম কেন? আক্রমণ কুণাল ঘোষের, পালটা সাফাই ঋতব্রতর
কালীঘাট তৃণমূলের সভার ভিড়ের সঙ্গে ঋতব্রত শিবড়ার জমায়েতের তুলনা টেনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ‘আয় দেখে যা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রতর পালটা দাবি, “আমাদের তো তা মনে হচ্ছে না। সবটাই আপেক্ষিক। ওখানে জায়গাটা তো খুব ছোট। আমাদের এখানেও লোক আসছে।”
এর পরেই দলের মূল স্রোতের বিরুদ্ধে হিংসা ও বাধা দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তোলেন তিনি। ঋতব্রত বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বহু কর্মী আক্রান্ত। আমাদের মুর্শিদাবাদের বাস ব্যারাকপুরে আক্রান্ত। আমাদের কৃষ্ণনগরের বাস আক্রান্ত। আমাদের কাজল শেখ কর্মীদের নিয়ে আসছিলেন, ভাতারে আক্রান্ত হয়েছেন। মহেশতলায় আমাদের গাড়ি বের হতে পারেনি। মেটিয়াবুরুজে গাড়ি বের হতে দেওয়া হয়নি।” তবে এত বাধা সত্ত্বেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা রয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।
যান চলাচল যাতে ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষ যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেই কথা মাথায় রেখেই নির্দিষ্ট জায়গা বেছে সভা করা হয়েছে বলে জানান ঋতব্রত। তিনি জানান, বহু কর্মী বাসে করে আসার সময় আক্রান্ত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেই সমস্ত তথ্য ও ভিডিও প্রমাণ ইতিমধ্যেই পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
তুলনার দায় কার?
সভা শেষে দুই শিবিরের জমায়েত নিয়ে যে তুলনা টানা হবে এবং তার দায় তাঁকে নিতে হবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে ঋতব্রত সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা কালেক্টিভলি (দলগতভাবে) দায় নেব। তবে কুণাল ঘোষের বক্তব্য ধরে এখনই কিছু বলা ঠিক নয়।” সব মিলিয়ে একুশে জুলাইয়ের দিনটিতেও দুই শিবিরের দ্বন্দ্বে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।