বাবার খুনের বদলা নিতে ২৩ বছর ধরে ছক! ৬ মাসের শিশুর খলনায়ক হয়ে ওঠার চাঞ্চল্যকর কাহিনী

সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে পুণের এই চাঞ্চল্যকর প্রতিশোধের ঘটনা। ২৩ বছর আগে যখন তার বয়স মাত্র ছয় মাস, তখন খুন হয়েছিল তার বাবা। সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন বুকে চেপে রেখে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিখুঁত ছক কষে অবশেষে বাবার খুনিকে খতম করল এক যুবক। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ বছরের এক যুবকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুণে গ্রামীণ পুলিশ (Pune Rural Police)।

ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই পুণে জেলার ভোর তহসিলের (Bhor tehsil) পুরনো কাটারাজ টানেলের কাছ থেকে ৪০ বছর বয়সি সঞ্জয় বাবাবুরাও কাদু দেশমুখ (Sanjay Baburao Kadu Deshmukh) নামের এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনার পরই রাজগড় থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়।

২৩ বছরের পুরনো ক্ষোভ এবং গ্রেফতারি
পুণে গ্রামীণ পুলিশের স্থানীয় অপরাধ শাখা (Local Crime Branch) কারিগরি প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মন্থন বৈদ্য (২৪) ও সৌরভ পরদেশী নামের দুই ব্যক্তিকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। সিনিয়র পুলিশ পরিদর্শক প্রমোদ ক্ষীরসাগর জানান, গত ১৪ জুলাই মন্থন ও সৌরভকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জেরার মুখে তারা স্বীকার করে যে, মিজান শেখ এবং সন্দীপ কোরি নামের আরও দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তারা সঞ্জয়কে খুন করেছে।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক শিহরণ জাগানো তথ্য:

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৩ সালে: সামান্য একটি বিবাদের জেরে মন্থনের বাবা দিনেশ বৈদ্যকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল সঞ্জয় কাদু দেশমুখের বিরুদ্ধে।

মাত্র ছয় মাস বয়স: সেই সময় মন্থন বৈদ্যের বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস। বাবার মৃত্যুর সেই ক্ষত ও জেদ বুকের মধ্যে লালন করেই বড় হয়ে ওঠে সে।

জামিনে মুক্ত ছিলেন নিহতেরা: পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় সঞ্জয় কাদু দেশমুখ অন্য একটি অপরাধের মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন।

যেভাবে ফাঁসল অভিযুক্তরা
তদন্তকারীদের মতে, মন্থন বৈদ্য পরিকল্পনা মাফিক বাকি সহযোগীদের নিয়ে সঞ্জয়কে হত্যার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মন্থন ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *