কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ে কার পরামর্শে ঘুরে দাঁড়ালেন পিভি সিন্ধু? সামনে এল বিরাট রহস্য!

পিভি সিন্ধুর জাপান ওপেন (Japan Open) জয় কেবল একটি ট্রফি জয় নয়, এটি ছিল তার শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অবিশ্বাস্য গল্প। একের পর এক ইনজুরি, খারাপ ফর্ম এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছিল, ঠিক তখনই এক নতুন মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাডমিন্টন কোর্টে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেছেন ভারতের এই তারকা শাটলার।
আর এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ভারতের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে একটি বিশেষ কথোপকথন। কেরিয়ারের অন্যতম অন্ধকার সময়ে যখন তিনি দিশেহারা, তখন শীর্ষ পর্যায়ের চাপের সঙ্গে লড়াই করা একজন মানুষের শরণাপন্ন হন সিন্ধু।
মাত্র কয়েক মিনিটেই কোহলির সাড়া
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X)-এ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিন্ধু জানান, সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠানোর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সাড়া দিয়েছিলেন ‘বিরাট ভাই’। এমনকি তার পরের দিনই তারা সাক্ষাত করেন। সে সময় সিন্ধুর সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী ভেঙ্কটা দত্ত সাই, যিনি সিন্ধুর ইনজুরি থেকে ফেরা এবং একটি শক্তিশালী দল গঠনে দারুণ সহায়তা করেছেন।
সিন্ধু লেখেন, “কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আমি বিরাট ভাইয়ের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। একের পর এক ইনজুরি ও খারাপ ফলের জেরে এমন একজনের প্রয়োজন ছিল, যিনি এই চাপ বুঝতে পারেন। তিনি মিনিট কয়েকের মধ্যে উত্তর দেন এবং পরের দিনই আমাদের দেখা হয়।”
কোহলির কোন কথায় বদলে গেল দৃষ্টিভঙ্গি?
যদিও তাদের আলোচনার বিস্তারিত বিষয়গুলো ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছেন সিন্ধু, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে কোহলির সেই পরামর্শ তার এবং দত্ত সাই উভয়ের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলেছিল। তার কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল—শুধু ট্রফি বা খেতাবের পেছনে না ছুটে খেলার আসল আনন্দকে আবার খুঁজে নেওয়া।
সিন্ধু জানান, এখন তিনি আর শুধু শিরোপা জয়ের কথা ভেবে সকালের ট্রেনিংয়ে যান না, বরং এই পুরো প্রক্রিয়াটাকেই তিনি উপভোগ করেন। আর এই নতুন মানসিকতার সুফলই হাতেনাতে মিলেছে জাপান ওপেনের ফাইনালে। ফাইনালে জাপানের ঘরের মেয়ে আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৭ সেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি। একইসঙ্গে তিনি হলেন সুপার ৭৫০ (Super 750) শিরোপা জয়ী সবচেয়ে বয়সি নারী শাটলার।
পর্দার পেছনের পরিশ্রম ও নতুন টিম
সাফল্যের নেপথ্যে নিজের ট্রেনিংয়ের পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন এনেছিলেন সিন্ধু। স্বামী দত্ত সাই, শক্তি প্রশিক্ষক ওয়েন লম্বার্ড এবং কোচ ইরওয়ানশাহর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে নিজের ফিটনেস উন্নত করেন তিনি। তড়িঘড়ি না করে প্রতিটি দিন ধরে ধরে এগোতে থাকেন এবং ইনজুরি কাটিয়ে শতভাগ প্রস্তুত হয়েই কোর্টে ফেরেন।
দিল্লিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং জাপানে এশিয়ান গেমসের দিকে তাকিয়ে থাকা সিন্ধু মনে করেন, জাপান ওপেন জয় তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, পরিশ্রম আর সঠিক মানসিকতা থাকলে কঠিন সময় পেরিয়ে চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব।