নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে রণক্ষেত্র দিল্লি! সংসদ ঘেরাও ঘিরে সংঘর্ষে আহত ১৬০-এর বেশি

সোমবার নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তেলাপোকা জনতা পার্টি (CJP)। গত এক মাস ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর এদিন বিক্ষোভকারীরা সরাসরি সংসদের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় এবং সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে আহত ১৬০-এরও বেশি
এই সহিংস বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বহু পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। সরকারি সূত্র মারফত জানা গেছে, এই সংঘর্ষে—

৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী।

এই ব্যাপক সহিংসতার ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে।

প্রতিবাদের মূল দাবিগুলো কী ছিল?
তেলাপোকা জনতা পার্টির এই আন্দোলনের নেপথ্যে ছিল বেশ কিছু জোরালো দাবি:

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত মুক্তি।

আত্মহত্যায় বাধ্য হওয়া নিট (NEET) শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ।

পুলিশের বহুমুখী তদন্ত ও সন্দেহ
সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে সিজেপি-র বিক্ষোভের জেরে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংসদগামী সমস্ত রাস্তায় ভারী ব্যারিকেড বসানো হলেও বিক্ষোভকারীরা তা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে:

উস্কানিদাতা চিহ্নিতকরণ: বিক্ষোভ চলাকালে কারা প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে উত্তেজনা ছড়াল, তা নিয়ে পুলিশ সন্দিহান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ছাত্র আন্দোলনটি অন্য কোনো গোষ্ঠী দ্বারা হাইজ্যাক (ছিনতাই) হয়ে থাকতে পারে, কারণ এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার লোকও জড়িত ছিলেন।

ফরেনসিক ও ডিজিটাল তদন্ত: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ভিডিওগুলো সম্পাদিত বা বিভ্রান্তিকর কি না, তা যাচাইয়ের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

প্রমাণ সংগ্রহ: সিসিটিভি, ড্রোন এবং পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

বহিরাগত যোগ: কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন বা বহিরাগত শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি হিংসাত্মক করে তুলেছিল কি না, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ডিজিটাল প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *