মহুয়া মৈত্রের স্বস্তি বাড়ল! ডিম হামলা মামলায় তৃণমূল সাংসদকে কড়া পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দিল হাইকোর্ট

কালীঘাটকাণ্ড এবং ডিম ছোঁড়াঝাঁড়ির অভিযোগে বিতর্কে জড়ানো তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানিতে সাংসদকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষা কবচ দেওয়া হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, মহুয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের সব ক্ষেত্রেই সাজা সাত বছরের কম হওয়ায়, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করলে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই রক্ষা কবচ বহাল থাকবে।

এদিনের শুনানিতে আদালতে জানানো হয় যে, বর্তমানে মহুয়া মৈত্র লোকসভার অধিবেশনে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে তিনি আগামী ১৪ অগস্ট বিকেল ৩টায় তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে হাজির হবেন। পাশাপাশি, সাংসদের আইনজীবী আদালতে আবেদন জানান যে, ডিম হামলার পাল্টা অভিযোগে পুলিশ তাঁকে তলব করেছে, তাই তাঁকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হোক।

অ্যাডভোকেট জেনারেলের (AG) আপত্তি ও পুলিশের নোটিস বিতর্ক
মহুয়ার আইনজীবীর এই আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) আদালতে জানান যে, এর আগে মহুয়া মৈত্রকে মোট চারটি নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি। নোটিস গ্রহণ করার পরেও তিনি উপস্থিত হননি এবং উল্টে দাবি করেছেন যে নোটিসে উল্লেখিত ঠিকানাটি একটি নির্মীয়মান ভবন—অথচ তিনি নিজেই সেই নোটিস গ্রহণ করেছিলেন।

আদালতের কড়া নির্দেশ ও নিরাপত্তার ভাবনা
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন যে, মহুয়া মৈত্র তদন্তে সহযোগিতা না করলে রাজ্য তা হাইকোর্টকে জানাবে। একই সঙ্গে আদালত এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাংসদ যখন থানায় হাজিরা দিতে যাবেন, তখন যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ডিম ছোঁড়ার মতো কোনো ঘটনা না ঘটে এবং তিনি যেন কোনোভাবেই হেনস্থার শিকার না হন—তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে পুলিশকে।

পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পলাশিতে একুশে জুলাইয়ের একটি প্রস্তুতি সভা করছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেই সময় স্থানীয় কিছু বিজেপি কর্মী ও সাধারণ মানুষ নিচে জড়ো হয়ে গো-ব্যাক স্লোগান দেয় এবং সভাস্থলে ডিম ছোঁড়া হয়। ডিমের আঘাতে কিছু দেওয়াল নোংরা হয় এবং ঘরের মধ্যেও ডিম এসে পড়ে। পুরো ঘটনার ফেসবুক লাইভ করেন মহুয়া মৈত্র। সেই লাইভের সময় তিনি কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *