ল্যাপটপ নাকি টাইম বোমা! আপনার কোন দৈনন্দিন ভুলে মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে আপনার সাধের ল্যাপটপ?

আপনার কোল বা বিছানায় থাকা শখের ল্যাপটপটি যেকোনো মুহূর্তে একটি টাইম বোমায় পরিণত হতে পারে—এমন সতর্কবার্তাই উঠে এসেছে গ্যাজেট বিশেষজ্ঞদের কথায়। দৈনন্দিন ব্যবহারে আমরা যেসব ছোটখাটো ভুলকে একদমই গায়ে মাখি না, সেগুলোর কারণে ডেকে আনতে পারে মারাত্মক ব্যাটারি বিস্ফোরণ। একটুখানি অসাবধানতাই তৈরি করতে পারে বড়সড় বিপদের পথ। ল্যাপটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে বিপজ্জনক ভুলগুলি এড়িয়ে চলা জরুরি, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
১. চা বা কফির কাপ ল্যাপটপের পাশে রাখা
ধোঁয়া ওঠা গরম চা বা কফির কাপটা ল্যাপটপের একদম পাশে বা কী-বোর্ডের ওপর রেখেই কাজ করার বদভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু সামান্য হাত লেগে সেই তরল ল্যাপটপের ভেতরে ঢুকলেই মাদারবোর্ড শর্ট সার্কিট হতে এক সেকেন্ডও লাগবে না। এর ফলে ব্যাটারির ভেতর আগুন ধরে গিয়ে নিমেষেই ঘটে যেতে পারে বড়সড় অঘটন।
২. বিছানা বা নরম তোশকে ল্যাপটপ ব্যবহার
বিছানার নরম তোশক বা কোল বালিশের ওপর ল্যাপটপ রেখে কাজ করার অভ্যাসটা আজই ত্যাগ করা উচিত। এসব নরম জায়গায় ল্যাপটপ রাখলে ভেতরের গরম হাওয়া বের হওয়ার এয়ার ভেন্টগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রসেসর অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে সেই তাপ সরাসরি লিথিয়াম ব্যাটারিতে গিয়ে লাগে, যা ব্যাটারি বাস্ট করার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. সস্তা ও নকল লোকাল চার্জারের ব্যবহার
আসল চার্জারটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে কি বাজারচলতি সস্তার কোনও লোকাল চার্জার দিয়ে ল্যাপটপ প্লাগ-ইন করছেন? এই ভুলটি ভুলেও করবেন না। এসব নকল চার্জারে ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণের কোনও সঠিক ক্ষমতা থাকে না। ফলে হাই ভোল্টেজ শকে ব্যাটারির ভেতরটা বিষাক্ত গ্যাসে ফুলে ওঠে। আর ফোলা ব্যাটারি মানেই চোখের পলকে বিস্ফোরিত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি।
৪. সারারাত ল্যাপটপ চার্জে বসিয়ে রাখা
রাতভর ল্যাপটপ চার্জে বসিয়ে রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ার ট্রেন্ড ভীষণ বিপজ্জনক। ব্যাটারি ১০০% চার্জ হয়ে যাওয়ার পরেও প্লাগ গুঁজে রাখলে কেমিক্যাল ওভারহিটিং শুরু হয়, যা ব্যাটারির ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’ (Thermal Runaway) ঘটাতে পারে। অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে ল্যাপটপটি বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে।
৫. কড়া রোদ বা বন্ধ গাড়িতে ল্যাপটপ রাখা
কড়া রোদের মধ্যে ল্যাপটপ ফেলে রাখা কিংবা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ গাড়ির ভেতর ডিভাইস রেখে দেওয়া চরম ভুল সিদ্ধান্ত। ভেতরের যন্ত্রাংশের নিজস্ব তাপমাত্রা আর বাইরের রোদের তীব্র উত্তাপ মিলে ব্যাটারির সেলগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে অকেজো করে দেয়। তাপমাত্রা সহনশীলতার সীমা পার করলেই তাতে আগুন ধরে যেতে পারে।
বিপদের আগাম লক্ষণ ও করণীয়
ল্যাপটপ থেকে হঠাৎ যদি কোনো মিষ্টি কেমিক্যালের গন্ধ, প্লাস্টিক পোড়ার শব্দ কিংবা ব্যাটারির দিকটা ফুলে উঠতে দেখেন, তবে ভুলেও তা অবহেলা করবেন না। এটি স্পষ্ট বার্তা যে ব্যাটারি তার শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়েছে। এমন লক্ষণ দেখলে এক সেকেন্ডও না ভেবে সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপ অফ করে দিন।
স্মার্টলি গ্যাজেট ব্যবহার করুন, অহেতুক জীবন ও ল্যাপটপ দুটোকেই ঝুঁকিতে ফেলবেন না। সবসময় আসল ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার করা, কাজের সময় শক্ত সমতল বা হার্ড সারফেসে ল্যাপটপ রাখা এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করালেই সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকা সম্ভব। একটু সজাগ আর সতর্ক থাকলেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।