গ্রহাণু নাকি ধূমকেতু? মহাকাশে দাপিয়ে বেড়ানো রহস্যময় বস্তুর সমাধানে বড় চমক বিজ্ঞানীদের

মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে মহাকাশ মানেই অজানাকে জানার এক অন্তহীন অভিযান। তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। ঠিক তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলো পৃথিবী, যখন ‘১৯৯৮ এসএইচ২’ (1998 SH2) নামক এক মহাজাগতিক বস্তু আমাদের গ্রহের ৩০ লক্ষ কিলোমিটার দূর দিয়ে উড়ে যায়। আর এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় রহস্যের ঘনঘটা।

কী ছিল সেই ধাঁধা?
২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট। পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই বস্তুটির আচরণ দেখে অবাক হন বিজ্ঞানীরা। এতদিন পর্যন্ত একে একটি সাধারণ গ্রহাণু (Asteroid) হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু এর গতিবিধি ছিল অদ্ভুত। কখনও মনে হচ্ছিল এটি একটি গ্রহাণু, আবার কখনও এর আচরণ ধূমকেতুর (Comet) মতো। এই দোলাচলেই দানা বাঁধে সন্দেহ। কোনো মহাজাগতিক বস্তুর পক্ষেই কি একই সঙ্গে দুই ধরনের আচরণ করা সম্ভব?

রহস্যের গভীরে বিজ্ঞানীরা
ধাঁধার উত্তর খুঁজতে আসরে নামেন বিজ্ঞানীরা। ব্যবহার করা হয় বিশ্বের অতিশক্তিশালী সব মহাকাশ গবেষণা যন্ত্র। গবেষণায় দেখা যায়, কক্ষপথে নির্দিষ্ট যে জায়গায় এই বস্তুটি থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তা সেখানে নেই! নিজের অবস্থানের এই পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। কেন একটি মহাজাগতিক বস্তু তার নির্ধারিত কক্ষপথের নিয়ম ভাঙছে?

অবশেষে মিলল সমাধান
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিজ্ঞানীরা অবশেষে রহস্যের কিনারা করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে, এতদিন আমরা একে যা ভেবেছিলাম, তা ভুল। এটি মোটেও কোনো গ্রহাণু নয়, বরং একটি ধূমকেতু।

কিন্তু এর গতিপথ কেন পরিবর্তিত হচ্ছে? বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ধূমকেতুটির শরীর থেকে ক্রমাগত গ্যাস নির্গত হচ্ছে। মহাকাশে এই গ্যাসের নির্গমনই বস্তুটির ধাক্কা বা প্রপালশনের কাজ করছে, যার ফলে এটি নিজের কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে অজানামুখী গতি পাচ্ছে।

মহাকাশ বিজ্ঞানে এই আবিষ্কার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্বের অনেক কিছুই এখনো আমাদের অনুমানের বাইরে। ‘১৯৯৮ এসএইচ২’ সেই রহস্যেরই একটি ছোট্ট অংশ মাত্র, যা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজের পরিচয় প্রকাশ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *