ডেঙ্গু দমনে বড় জয় ভারতের! অনুমোদন পেল প্রথম ভ্যাকসিন ‘কিউডেঙ্গা’, জেনে নিন খুঁটিনাটি

গত দুই দশক ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভারতের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এবার সেই লড়াইয়ে এল বড় স্বস্তি। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) ভারতে ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA/TAK-003)-কে অনুমোদন দিয়েছে। জাপানি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা ‘তাকেডা’ (Takeda)-র তৈরি এই টিকা ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষার ঢাল জোগাবে।
কী এই ‘কিউডেঙ্গা’ ভ্যাকসিন?
এটি একটি ‘লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড’ বা জীবিত কিন্তু দুর্বল করা টেট্রাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন। এর বিশেষত্ব হলো, এটি ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ (DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4) থেকেই মানুষকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
ভ্যাকসিনের মূল সুবিধা:
সব ধরনের ডেঙ্গি থেকে সুরক্ষা: ডেঙ্গুর সব ধরণ থেকেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলবে।
হাসপাতালের ঝুঁকি কম: উপসর্গযুক্ত ডেঙ্গি সংক্রমণ এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমিয়ে দেয়।
রক্ত পরীক্ষার ঝঞ্ঝাট নেই: পূর্ববর্তী বেশ কিছু ভ্যাকসিনের মতো এটি নেওয়ার আগে আলাদা করে আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কি না, তা জানার জন্য কোনো রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
কারা, কীভাবে নেবেন?
বয়সসীমা: ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো ব্যক্তি এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন।
পূর্ব অভিজ্ঞতা: যাদের আগে ডেঙ্গু হয়েছে, তারাও এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন।
ডোজ: মোট দুটি ডোজ নিতে হবে। প্রথম ডোজের তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজটি নিতে হবে।
বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি ও ভারতে উৎপাদন
বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া এবং আর্জেন্টিনা সহ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে এই ভ্যাকসিন সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩২ মিলিয়নেরও বেশি ডোজ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এই টিকাকে অত্যন্ত কার্যকরী বলে অভিহিত করেছে।
সবচেয়ে আশার কথা হলো, শুধু বিদেশ থেকে আমদানি নয়, ভারতেও এই ভ্যাকসিন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাপানি সংস্থা ‘তাকেডা’ ভারতের খ্যাতনামা টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘বায়োলজিক্যাল ই’ (Biological E)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করবে। ফলে ভবিষ্যতে এই ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।