মঙ্গলের বুকে লুকানো ‘টাইম ক্যাপসুল’! প্রাচীন বিশাল বালির ঝড়ের প্রমাণ পেল নাসার কিউরিওসিটি

মঙ্গলগ্রহের রূপান্তর কেন এবং কীভাবে হলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দশকের পর দশক ধরে লাল গ্রহের বুক চষে বেড়াচ্ছে নাসার রোবট যানগুলো। এবার সেই অনুসন্ধানে এক যুগান্তকারী সাফল্য পেল কিউরিওসিটি রোভার। মঙ্গলের ‘জবোন ক্যানিয়ন’ (Zebon Canyon) এলাকায় খুঁজে পাওয়া পাথরের স্তরে বিজ্ঞানীরা পেলেন প্রাচীনকালের এক ভয়াবহ ও মহাকাব্যিক বালি ঝড়ের অকাট্য প্রমাণ।
পাথরের স্তরে লেখা ইতিহাসের পাতা
বিজ্ঞানীদের মতে, এই পাথরের স্তরগুলো সাধারণ কোনো গঠন নয়। এগুলো আসলে মঙ্গলগ্রহের ইতিহাসের এক জীবন্ত ‘টাইম ক্যাপসুল’। লক্ষ লক্ষ বছর আগে মঙ্গলগ্রহে ক্রমাগত বালি ঝড় বয়ে যেত। একেকটি ঝড়ে বালি উড়ে এসে স্তর তৈরি করেছে, যা সময়ের স্রোতে জমাট বেঁধে পাথরে পরিণত হয়েছে। ঠিক যেন খাতার পাতায় লেখা কোনো ইতিহাসের মতো, পরতে পরতে সাজানো এই পাথরের স্তরগুলো বলছে কোটি কোটি বছর আগের মঙ্গলের কথা।
কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
মঙ্গলের এই বালি ঝড়গুলোকে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির ইতিহাসের এক ‘নাটকীয় অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে:
স্তরবিন্যাস: বালির স্তর বারবার আসা এবং জমা হওয়ার প্রক্রিয়াই প্রমাণ করে যে, তৎকালীন মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত অস্থির।
বিবর্তন: এই পাথরের স্তরগুলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করছেন যে, সময়ের সঙ্গে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ও জলবায়ুতে কী কী বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল।
প্রাচীন মঙ্গলের রূপ: এখন যা রুক্ষ পাথুরে মরুভূমি, এককালে সেখানে যে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ এবং বালির রাজত্ব ছিল, তার সাক্ষী দিচ্ছে কিউরিওসিটির পাঠানো এই তথ্য।
কেন এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে মঙ্গলগ্রহে ঘুরে বেড়ানো নাসার রোবট যানগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো—লাল গ্রহের প্রথমাবস্থা কেমন ছিল এবং কেন তা আজকের এই অবস্থায় পৌঁছাল, সেই রহস্য উদ্ঘাটন করা। জবোন ক্যানিয়নের এই স্তরগুলো সেই বিবর্তনের ধারায় গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র স্থাপন করছে। পাথরের প্রতিটি স্তর একেকটি সময়ের সাক্ষী, যা থেকে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের জলবায়ু পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি নিখুঁতভাবে বুঝতে পারবেন।
নাসার পাঠানো এই তথ্যগুলো বিজ্ঞানীদের মঙ্গলের ইতিহাসের একটি স্বচ্ছ মানচিত্র তৈরিতে সাহায্য করছে। কিউরিওসিটির এই আবিষ্কার প্রমাণ করল যে, মঙ্গলের প্রতিটি ধূলিকণায় লুকিয়ে আছে কোটি কোটি বছরের ইতিহাস, যা আমাদের পৃথিবী সম্পর্কেও নতুন অনেক কিছু শেখাতে পারে।