ভারতের একমাত্র ‘ব্যাঙ মন্দির’! এই শিব মন্দিরের অলৌকিক কাহিনি শুনলে অবাক হবেন

সনাতন ধর্মে পশুপাখিকে দেবতার প্রতীক হিসেবে মানা হয়—তা গরু বা সাপ হোক কিংবা হাতি। কিন্তু আপনি কি কখনো শুনেছেন এমন কোনো মন্দিরের কথা, যা উৎসর্গ করা হয়েছে একটি ব্যাঙকে? অবিশ্বাস্য মনে হলেও ভারতের উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার ওয়য়াল নামক ছোট শহরে রয়েছে দেশের একমাত্র ‘ব্যাঙ মন্দির’ বা মণ্ডুক মন্দির।

স্থাপত্য ও রহস্য:
এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর স্থাপত্য। বাইরে থেকে পুরো মন্দিরটিকে একটি বিশাল ব্যাঙের আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে, যা একটি কুমিরের পিঠের ওপর বসে আছে। মেঘালয়ের প্রখ্যাত তান্ত্রিক সাধক কপিলের নির্দেশনায় ‘মণ্ডুক যন্ত্র’-এর ওপর ভিত্তি করে রাজস্থানী শৈলীতে এটি নির্মিত। ভক্তরা মন্দিরের পূর্ব দরজা অর্থাৎ ব্যাঙের মুখের মধ্য দিয়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। মন্দিরের দেওয়ালে খোদাই করা তান্ত্রিক নকশাগুলি আজও এই স্থাপত্যের রহস্য বাড়িয়ে দেয়।

মন্দিরের অলৌকিক মহিমা:
এখানে প্রতিষ্ঠিত নর্মদেশ্বর মহাদেবের শিবলিঙ্গটি অত্যন্ত দুর্লভ। এখানকার সবচেয়ে বড় অলৌকিক ঘটনা হলো—শিবলিঙ্গটি দিনের বিভিন্ন সময়ে তার রঙ পরিবর্তন করে। এছাড়া, সারা বিশ্বের শিব মন্দিরে নন্দী মহারাজকে সাধারণত উপবিষ্ট ভঙ্গিতে দেখা গেলেও, এই মন্দিরে নন্দী মূর্তিটি দণ্ডায়মান অবস্থায় রয়েছে, যা ভারতের আর কোথাও দেখা যায় না।

ইতিহাস ও লোককথা:
প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে এক রাজা ও ব্যাঙের দৈব আশীর্বাদের কাহিনি। লোককথা অনুযায়ী, একাদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চল শাসন করা চৌহান রাজবংশের রাজা বখত সিংয়ের রাজ্যে একবার ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। সেই সময় একটি ‘দৈব ব্যাঙ’ রাজাকে আশীর্বাদ করেন এবং রাজ্যের ভাগ্য বদলে যায়। ব্যাঙকে তান্ত্রিক শাস্ত্রে সমৃদ্ধি ও উর্বরতার প্রতীক মনে করা হয়, তাই সেই দৈব ব্যাঙের স্মরণে রাজা বখত সিং এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

বিশেষ উৎসব:
উত্তর প্রদেশ পর্যটন বিভাগ কর্তৃক স্বীকৃত এই মন্দিরে মহাশিবরাত্রিতে বিশাল উৎসব হয়। এছাড়া দীপাবলির সময় বিশেষ তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, ব্যাঙের পিঠে অবস্থিত মহাদেবের দর্শন করলে সমস্ত দুঃখ দূর হয় এবং জীবনে সমৃদ্ধি আসে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *