বিধায়কদের গুরুত্ব বাড়ল বিধানসভায়! ‘উল্লেখ পর্বের’ নালিশে নজরদারি সরাসরি সিএমও-র

বিধানসভার ‘উল্লেখ পর্ব’ এতদিন কেবল বিধায়কদের অভাব-অভিযোগ জানানোর মঞ্চ হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেখানে তোলা বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে। তবে এবার সেই চিত্র বদলে দিতে এক নজিরবিহীন এবং ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন থেকে বিধায়কদের তোলা প্রতিটি ইস্যুর নিষ্পত্তি হবে স্বচ্ছভাবে এবং তার ওপর কড়া নজরদারি চালাবে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO)।

নতুন নির্দেশিকায় যা থাকছে:
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে:

৭ দিনের সময়সীমা: বিধানসভার সচিবালয় থেকে নথি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে বিষয়টি পৌঁছাতে হবে।

মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে নিজে সই করে বিধায়ককে জবাব দিতে হবে। কোনো কাজ করা সম্ভব কি না, তা স্পষ্ট জানাতে হবে। যদি কাজ করা সম্ভব না হয়, তবে কেন করা যাচ্ছে না, তার কারণও দর্শাতে হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রীরা কাজ শেষের জন্য সময় চেয়ে নিতে পারবেন।

সিএমও-র সরাসরি নজরদারি: বিধানসভার সচিবালয় থেকে এই নথির একটি প্রতিলিপি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO) পাঠানো হবে। সেখান থেকে পুরো বিষয়টি মনিটর করা হবে।

৩ মাস অন্তর রিপোর্ট: প্রতি তিন মাস অন্তর বিধায়কদের কাছে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ পাঠানো হবে, যাতে তাঁরা জানতে পারেন তাঁদের তোলা বিষয়টির বর্তমান অবস্থা কী।

বিধানসভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিধানসভার অন্দরে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দেখেছি উল্লেখ পর্বে তোলা বিষয়গুলো অতীতে সেভাবে গুরুত্ব পেত না। আমি চাই, বিধায়কদের বলা প্রতিটি কথা যেন যথাযথ গুরুত্ব পায়। আমরা সিএমও থেকে বিষয়টি মনিটর করব, যাতে আপনাদের কথা শুধু বলার জন্য নয়, কার্যকর হয়।”

ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, মত ফিরহাদের
মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে বিধানসভার অন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন সকলেই। অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস এই উদ্যোগকে নতুন এবং ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিম বিষয়টিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এর আগে শুধু ১৫ বছর নয়, বিরোধী বিধায়ক হিসেবেও কাজ করেছি। কিন্তু বিধায়কদের এইভাবে সম্মান দিয়ে, তাঁদের তোলা বিষয়ের ওপর অ্যাকশন রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনা বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম। এটি নিশ্চিতভাবে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে।”

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক কড়াকড়ি বিধানসভার কর্মসংস্কৃতিতে এক নতুন স্বচ্ছতার যুগ আনবে। এতে একদিকে যেমন বিধায়কদের মর্যাদা বাড়বে, তেমনি এলাকার উন্নয়নের কাজগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *