হার্ট অ্যাটাকের পর ছাঁটাই! আত্মীয়ের অপমানের বদলা নিতেই ১২ ঘণ্টা বাইক চালাচ্ছেন এই ধনকুবের

টাকা উপার্জন করাই কি একমাত্র লক্ষ্য? সাধারণ মানুষের এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে নেটপাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিহারের এক উবার বাইক চালক। যাঁর কাছে কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে, তবুও প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা রাস্তায় ঘাম ঝরান তিনি। কিন্তু কেন? তাঁর এই লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক এবং একইসঙ্গে অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
হৃদরোগের পর ‘অকেজ’ তকমা
সোশ্যাল মিডিয়ায় আস্থা শেঠ নামক এক ব্যক্তির পোস্ট করা ভিডিও থেকে জানা যায়, বিহারের সমস্তিপুরের বাসিন্দা এই ব্যক্তি একসময় দিল্লিতে এক আত্মীয়ের কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু বিধি বাম! চলতি বছর তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। এরপরই সেই আত্মীয় তাঁকে কারখানা থেকে ছাঁটাই করে দেন এবং অপমান করে জানান, “তুমি এখন অকেজ, তোমার দ্বারা আর কোনো কাজ হবে না।” এই অপমানই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সম্পত্তি ও উপার্জনের বহর
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ওই ব্যক্তির অভাবের সংসার নয়। নয়ডা ইলেকট্রিক সিটির কাছে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা। ফ্ল্যাট ভাড়া বাবদ তিনি মাসে ৮০ হাজার টাকা আয় করেন। কিন্তু সেই আরামের জীবন ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছেন বাইক রাইডিংয়ের কঠোর পরিশ্রম।
কেন এই জেদ?
সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা— টানা ১২ ঘণ্টা উবার বাইক চালিয়ে তিনি মাসে আরও ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। তবে অতিরিক্ত অর্থের জন্য নয়, বরং আত্মীয়ের সেই অপমানজনক মন্তব্যের যোগ্য জবাব দিতেই প্রতিদিন রাস্তায় নামেন তিনি। তিনি প্রমাণ করতে চান যে, হার্ট অ্যাটাক হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং মনোবল থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব।
মুগ্ধ নেটপাড়া
এই অদম্য জেদ ও মানসিক শক্তির গল্প ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আপনার জেদ এবং সাহসকে কুর্নিশ জানাই।” কেউ আবার এই লড়াইকে অভিহিত করেছেন জীবনের সেরা অনুপ্রেরণা হিসেবে। হার মেনে ঘরে বসে না থেকে যে লড়াইয়ের মাধ্যমে অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায়, তারই প্রতীক হয়ে উঠেছেন বিহারের এই বাসিন্দা।