দিল্লিতে রণক্ষেত্র! সংসদ অভিযানের ডাক দিতেই লাঠিচার্জ, বন্ধ ৫ মেট্রো স্টেশন

সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী নয়াদিল্লি। শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর এলাকা পরিণত হলো রণক্ষেত্রে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
কেন এই পরিস্থিতি?
শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে সোমবার যন্তর মন্তরে জড়ো হন সিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তাঁরা সংসদ ভবনের দিকে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, এই মিছিলের জন্য সংগঠনের তরফে কোনো বৈধ আবেদন করা হয়নি, এবং অনুমতিও দেয়নি প্রশাসন।
৫ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রী
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং সেবা তীর্থ— এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে স্টেশন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।
আইনি হুঁশিয়ারি পুলিশের
পরিস্থিতি সামলাতে নতুন দিল্লি এলাকায় বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। ডিসিপি প্রেম শচীন শর্মা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অনুমতিহীন এই জমায়েত আইনত দণ্ডনীয়। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২২৩ ধারায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নেপথ্যে অনশন বিতর্ক
জানা গেছে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং তাঁর হাসপাতালে ভর্তির ঘটনার প্রতিবাদে এই আন্দোলন। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আহ্বানেই সোমবারের এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকেই আন্দোলনকারীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি
সংসদ মার্গ, সেন্ট্রাল ভিস্তা ও কনট প্লেসসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। মোতায়েন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। সিসিটিভি নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। রাজপথে উত্তেজনা থাকলেও, এখন এলাকা জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।