কাগজের 10, 20 টাকার নোটবন্দি? জেনেনিন RBI-এর নতুন প্ল্যান কি?

সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কি চিরতরে বিদায় নিতে চলেছে কাগজের নোট? সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। টেকসই নোট তৈরির লক্ষ্যে এবার কাগজের নোটের বদলে পলিমার বা প্লাস্টিকের তৈরি নোট আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

কেন এই পরিবর্তন? কাগজের নোটের স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এই সমস্যা দূর করতেই আরবিআই পলিমার সাবস্ট্রেট ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। আপাতত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিসেবে ১০ এবং ২০ টাকার নোট দিয়েই এই নতুন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হতে চলেছে। এই ট্রায়াল সফল হলে, ২০২৭ সাল নাগাদ দেশের বাজারে পুরোদমে প্লাস্টিকের নোট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে আরবিআই-এর।

কীভাবে এই নোট তৈরি হবে? আরবিআই-এর নোট ছাপানোর শাখা সংস্থা ‘ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড’ (BRBNMPL) ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে পলিমার সাবস্ট্রেট শিট উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্র (Tender) চেয়েছে। মোট ৬৮,০০০ রিম পলিমার সাবস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে, যার অর্ধেক অর্থাৎ ৩৪,০০০ রিম বরাদ্দ থাকবে ১০ ও ২০ টাকার নোটের জন্য। এই শিটগুলোতে থাকবে অত্যাধুনিক সিকিউরিটি ফিচার, যা জালিয়াতি রুখতে সাহায্য করবে।

সুরক্ষাবিধিতে কঠোর আরবিআই: এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস করতে নারাজ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। দরপত্র জমার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে:

  • চীন ও পাকিস্তানের নিষেধাজ্ঞা: যে সমস্ত সংস্থার চীন বা পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন রয়েছে, তারা এই টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না।

  • কাঁচামাল ও কর্মী: এই দুই দেশ থেকে কোনও কাঁচামাল নেওয়া যাবে না। এমনকি অতীতে চীন বা পাকিস্তানে কাজ করেছেন এমন কোনও কর্মীকেও এই প্রকল্পে নিযুক্ত করা যাবে না।

  • রেজিস্ট্রেশন: ভারতের স্থল সীমান্তের দেশগুলির কোনও সংস্থা যদি অংশগ্রহণ করতে চায়, তবে তাদের ‘ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড’-এর রেজিস্ট্রেশন কমিটির কাছে নথিভুক্ত হতে হবে।

  • সময়সীমা: আগ্রহী সংস্থাগুলিকে আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে।

বলা বাহুল্য, আরবিআই-এর এই পদক্ষেপ সফল হলে ভারতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন ডিজিটাল ও আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থার সূচনা হবে, যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি জাল নোটের কারবারিদের জন্যও বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *