আমতলায় অভিষেকের অফিসে বুলডোজার, আদালতের দ্বারস্থ ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’, জরুরি শুনানির আবেদন!

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর মালিকানাধীন আমতলার কার্যালয়ে বুলডোজার চালানোর ঘটনায় তীব্র শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। কোনো বৈধ প্ল্যান ছাড়াই বহুতল নির্মাণের অভিযোগে শনিবার কার্যালয়টি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করে প্রশাসন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড’। আজ, রবিবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চে এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ? প্রশাসন সূত্রে খবর, আমতলার ওই কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং অনুমোদিত নকশা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে শুনানির জন্য দুটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিসে সাড়া না মেলায় শনিবার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে কার্যালয় ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আদালতে অভিযোগ: ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর দাবি, জমির বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক মদতে তড়িঘড়ি এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অফিস ভাঙা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে চিঠি লিখে জরুরি হস্তক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছিল।
ঘটনাক্রম: শনিবার সকাল থেকেই আমতলার ওই এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর তিনটি বুলডোজার দিয়ে শুরু হয় ভাঙার কাজ। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই কার্যালয় ছিল এলাকা সন্ত্রস্ত করার অন্যতম কেন্দ্র। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পাল্টা অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, যে জমিতে কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে নথিভুক্ত এবং সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। নোটিসের জবাব না দেওয়ার কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এখন হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেটাই দেখার।