মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়! এনসিপি-র দুই শিবিরকে কি ফের এক করতে চায় বিজেপি?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের কি পুরনো সমীকরণ ফিরতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, অজিত পাওয়ার এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীকে ফের একজোট করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে খবর, এনডিএ (NDA)-তে এনসিপি-র দুটি গোষ্ঠীকে আলাদাভাবে না রেখে, আগে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মিটমাট এবং পুনর্মিলন চাইছে বিজেপি।
বিজেপি-র নতুন কৌশল:
২০২৩ সালের জুলাই মাসে এনসিপি ভেঙে অজিত পাওয়ার এনডিএ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন তাঁকে ‘অফিসিয়াল এনসিপি’ হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়। অন্যদিকে, শরদ পাওয়ারের শিবির ‘এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার)’ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, শরদ পাওয়ার কিংবা তাঁর শিবিরের নেতাদের আলাদা করে এনডিএ-তে নেওয়ার পক্ষপাতী নয় তারা। বিজেপির কৌশল স্পষ্ট—যেকোনো রাজনৈতিক রফাদফার আগে এনসিপি-কে ফের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কেন এই তৎপরতা?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনেই সংসদের বাদল অধিবেশন। সেখানে সরকার ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল’ পেশ করতে চলেছে, যার লক্ষ্য লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ বৃদ্ধি করা এবং নতুন করে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস শুরু করা। এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাস করানোর জন্য কেন্দ্রে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে। সেই সমীকরণেই এনসিপি (এসপি)-র ৮ জন লোকসভা সদস্যের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। যদিও সুপ্রিয়া সুলে সাফ জানিয়েছেন, এনডিএ-তে যোগদানের কোনো প্রশ্নই নেই এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
নেতাদের সাক্ষাৎ ও জল্পনা:
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে উভয় এনসিপি শিবিরের নেতাদের একাধিক বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও জয়ন্ত পাটিল দাবি করেছেন, বৈঠকটি কেবল প্রশাসনিক ছিল। অন্যদিকে, শরদ পাওয়ারের একনাথ শিন্ডের অফিসে গিয়ে বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করাকেও ‘নিছক কাকতালীয়’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন সুপ্রিয়া সুলে।
ক্ষমতার দাবি:
এদিকে এনডিএ-র শরিক হিসেবে এনসিপি (অজিত পাওয়ার শিবির)-র মুখপাত্র উমেশ পাটিল জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলে তাঁরা সেখানে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব আশা করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সব মিলিয়ে, বারবার অস্বীকার করা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে নতুন করে কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ বা পুনর্মিনলনের পটভূমি তৈরি হচ্ছে, তা এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে পরিষ্কার। এখন দেখার, সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে এই জল্পনা কতদূর গড়ায়।