ফুটবলের উন্মাদনায় নন্দন! প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে বিশাল পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের উন্মাদনা এবার আর কেবল ঘরের পর্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ফুটবলপ্রেমী রাজ্যবাসীর জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রথমবারের মতো কলকাতার নন্দনে বিশাল স্ক্রিনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই বিশেষ আয়োজনের উদ্বোধনে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

নন্দনে উৎসবের প্রস্তুতি: ইতিমধ্যেই নন্দন চত্বরকে সাজিয়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ক্রীড়া দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সমন্বয়ে এই অনুষ্ঠানের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুক্রবার এ বিষয়ে নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। শুধু নন্দনের সিনেমা হলের অন্দরেই নয়, গোটা চত্বরজুড়েই তৈরি করা হচ্ছে উৎসবের আবহ। দর্শকদের জন্য জার্সি, মুখে রঙ লাগানো এবং প্রিয় দলের পতাকাসহ বিশেষ আকর্ষণের ব্যবস্থাও থাকছে। ম্যাচ চলাকালীন দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করার জন্য কলকাতা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলায় জেলায় ফুটবল উৎসব: কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জায়ান্ট স্ক্রিনে ফাইনাল দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের সচিব রাজেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে এই আয়োজনের জন্য এক লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তারকা সমাগম ও জল্পনা: বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতে নন্দন চত্বরে প্রাক্তন ফুটবলার, ক্রীড়াবিদ এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণে আমন্ত্রিত তারকাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থন কোন দিকে? সবশেষে যে প্রশ্নটি ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে, তা হলো—ফাইনালের রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোন দলের জার্সি গায়ে জড়াবেন? আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন—কোন দলের সমর্থক তিনি? সেই রহস্যের উত্তর পেতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে রবিবার রাত পর্যন্ত। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, বিশ্বকাপ ফাইনালের এই রাত কলকাতার ক্রীড়ামোদী মানুষের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *