“রাস্তা সারাতে কোদাল হাতে পুলিশ!”-বর্ধমান-আরামবাগ সড়কের বেহাল দশা

বর্ধমান-আরামবাগ রাস্তার উচালন আমতলা থেকে একলক্ষ্মী পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা এখন এতটাই শোচনীয় যে, পথচারী থেকে वाहनচালক—প্রত্যেকের কাছেই তা এক বিরাট আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বড় বড় গর্তে ভরা এই রাস্তায় যেকোনো সময় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের মানবিক উদ্যোগ: রাস্তার বেহাল দশায় অতিষ্ঠ হয়ে, প্রশাসনের নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে মাধবডিহি থানার ওসি রাজেশ মাহাতো নিজেই মেরামতির কাজে নামেন। স্থানীয় ইটভাটা থেকে ইট এনে থানার পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে তিনি সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট করার কাজ শুরু করেন। তবে ভারী যান চলাচলের চাপে দিন চারেকের মধ্যেই রাস্তাটি ফের আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

কেন এই দুরবস্থা? পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণ সেতুর সংস্কার কাজ চলায় বর্ধমান-আরামবাগ রাস্তায় যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়েছে। পাথর ও বালিবোঝাই লরির যাতায়াতে রাস্তাটি একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। উচালনের বাসিন্দা অশোক ভট্টাচার্যের কথায়, “এই সাত কিলোমিটার রাস্তা পার হওয়া এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

প্রশাসনিক তোড়জোড়: দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা পূর্ত দপ্তরে বারবার আবেদন জানালেও, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উদাসীনতায় কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল উদ্বিগ্ন হয়ে রাজ্য সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। শেষমেশ জেলাশাসকের সক্রিয়তায় রাজ্য পূর্ত ও সড়ক দপ্তরের সচিব বিষয়টি জানার পরই নড়েচড়ে বসেছেন।

জানা গিয়েছে, জেলা পূর্ত দপ্তরকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এমনকি শুক্রবার রাত থেকেই জরুরি ভিত্তিতে এই রাস্তা সারানোর কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এতদিনে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি মিটবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *