বাংলাদেশে ফেরানো হবে শেখ হাসিনাকে? কী জানালেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র?

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে ঢাকা। শুক্রবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণের আবেদনটি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের অবস্থান: সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা প্রত্যর্পণের একটি আবেদন পেয়েছি। আগের মতোই পুনরায় জানাচ্ছি যে, সেই আবেদনটি এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যে আইনি জটিলতা ও পদ্ধতিগত দিকগুলি জড়িত, তা বিবেচনা করেই পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।” অর্থাৎ, ভারত সরকার যে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তা জয়সওয়ালের বক্তব্যে স্পষ্ট।
হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘিরে জল্পনা: গত কয়েকদিন ধরে খবর ছড়িয়েছে যে, ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরে এসে পুনরায় আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী। অন্যদিকে, গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। এই রায় ঘোষণার পরই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সরকার।
আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি: যদিও ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনো সবুজ সংকেত এখনও পাওয়া যায়নি, তবুও আওয়ামী লীগের একাংশ দাবি করেছে যে, তাঁদের নেত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আইনি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হাসিনার ভারতে অবস্থান যে দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে, এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে সরকার বিরোধী প্রবল আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে তড়িঘড়ি ঢাকা ছাড়েন শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এখন ভারতের আইনি ও কূটনৈতিক পর্যালোচনার ওপরই নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য।