মাকে খুনের নেপথ্যে শুধু চাকরি? জয়পুর হত্যাকাণ্ডে সামনে এল নির্যাতনের ভয়াবহ ইতিহাস

রাজস্থানের জয়পুরে নীরজ শর্মা হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতদিন পর্যন্ত এই ঘটনাকে শুধুমাত্র সরকারি চাকরি ও সম্পত্তির লোভ হিসেবে দেখা হলেও, এখন পুলিশের তদন্তে উঠে আসছে পারিবারিক প্রতিহিংসা এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভের এক ভয়াবহ চিত্র।
মায়ের প্রতি আয়ুষীর ‘গভীর ক্ষোভ’: পুলিশি জেরায় ২৪ বছর বয়সী আয়ুষী শর্মা নিজের মাকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই মায়ের রূঢ় আচরণ এবং বাবার ওপর নির্যাতনের ঘটনা তাকে মানসিকভাবে বিক্ষিপ্ত করে তুলেছিল। আয়ুষীর মোবাইলে পাওয়া বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজকে ঘিরে এখন নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। আয়ুষীর দাবি, ওই ভিডিওগুলিতে তাঁর বাবাকে মায়ের হাতে নিয়মিত লাঞ্ছিত ও মারধর করতে দেখা যেত। বাবার মৃত্যুর জন্য তিনি সরাসরি মাকেই দায়ী করেন এবং মনে করতেন, বাবার সরকারি চাকরির অধিকার মায়ের থাকা উচিত নয়।
মামার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন আয়ুষীর মামা রাকেশ কুমার শর্মা। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, নীরজ শর্মা একা নন, গত বছর নিজের বাবাকেও পরিকল্পিতভাবে খুন করেছেন আয়ুষী। ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বাবা বিজয় শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল। তখন উন্নত চিকিৎসার নাম করে বাবাকে পরিবারের থেকে দূরে রাখা হয়েছিল এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই আয়ুষীর ওপর তাঁর সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে বলরাম: পুলিশের নজরে এখন আয়ুষীর খুড়তুতো ভাই বলরাম। তদন্তকারীদের অনুমান, আয়ুষীর সাথে বলরামের সম্পর্ক কেবল আত্মীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের মধ্যে ব্ল্যাকমেলের সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে বলরাম পলাতক এবং তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।
৩ জুলাইয়ের সেই রাত: প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে একটি সাধারণ ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ৩ জুলাই নীরজ শর্মাকে হত্যা করার জন্য ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করা হয়েছিল। এটি যে একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা ডিজিটাল প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছে।
জয়পুর পুলিশ এখন নীরজ শর্মার পাশাপাশি বিজয় শর্মার মৃত্যুর ঘটনাটিও পুনরায় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং নেপথ্যে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।