চলন্ত বাসে পিছু নিয়ে বাস স্ট্যান্ডেই কোপ! একতরফা প্রেমের নৃশংস পরিণতিতে কাঁপল দেশ!

একতরফা প্রেমের নৃশংস ও ভয়ঙ্কর পরিণতি দেখল কর্ণাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলা। প্রকাশ্য দিবালোকে বিসি রোড কেএসআরটিসি (KSRTC) বাস স্ট্যান্ডে ২১ বছর বয়সী এক তরুণী নার্সকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করল এক যুবক। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত যুবক চম্পট দেয় এবং খোদ নিহতের বাবাকে ফোন করে খুনের দায় স্বীকার করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম লাভণ্য (২১)। তিনি কাল্লাডকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। অভিযুক্ত যুবকের নাম চেতন।
চলন্ত বাসে পিছু, তারপর প্রকাশ্য স্থানে হামলা!
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক রোমহর্ষক তথ্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাভণ্য যখন বাড়ি ফেরার জন্য বাসে ওঠেন, অভিযুক্ত চেতনও তাঁর পিছু নিয়ে বাসে ওঠে এবং লাভণ্যের পাশের সিটেই বসে। লাভণ্য বিপদ বুঝতে পেরে বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে চেতন বাস স্ট্যান্ডের মতো একটি জনাকীর্ণ পাবলিক প্লেসেই ধারালো অস্ত্র বের করে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
লাভণ্যের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বান্টওয়াল তালুক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যাখ্যানের জের ও পূর্ব শত্রুতা
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চেতন ও লাভণ্য দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। চেতন দীর্ঘদিন ধরে লাভণ্যকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল, কিন্তু লাভণ্য তা বারবার প্রত্যাখ্যান করেন। এই ক্ষোভ থেকেই চেতন এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে চেতন লাভণ্যের কর্মক্ষেত্রে (নার্সিংহোম) গিয়েও তুমুল অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। তবে সেই সময় লোকলজ্জা বা অন্য কোনো কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
খুন করে বাবাকে ফোন ও পুলিশের জালে ঘাতক
নৃশংস এই হামলার পর অভিযুক্ত চেতন একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর পথেই সে লাভণ্যের বাবাকে ফোন করে এবং ঠান্ডা মাথায় জানায় যে সেই তাঁর মেয়েকে খুন করেছে।
ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে কর্ণাটক পুলিশ। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। অবশেষে ম্যাঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে বামনজুর পচছনডি এলাকা থেকে অভিযুক্ত চেতনকে ঘেরাও করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।