২১ শতকের মহাবিপ্লব! ভারতের মাটি কাঁপিয়ে প্রথম ছুটল হাইড্রোজেন ট্রেন, ইতিহাস গড়লেন মোদী!

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে আজ, শুক্রবার (১৭ জুলাই) যুক্ত হলো এক সোনালী অধ্যায়। হরিয়ানার জিন্দ রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত (Hydrogen-powered) ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সবুজ পতাকা ওড়ানোর পর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোম্বে এবং থানের মধ্যে চলা ভারতের প্রথম ট্রেনের মতোই, ২১ শতকের এই নতুন বিপ্লবে হরিয়ানার নাম ইতিহাসের পাতায় চিরকালের জন্য খোদাই হয়ে গেল।
হাইড্রোজেন ট্রেনের পাশাপাশি এদিন হরিয়ানাবাসীকে আরও একগুচ্ছ বড় উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করতে এদিন মোট ১৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করা হয়। যার মধ্যে নতুন রেললাইন, হাইওয়ে প্রজেক্ট এবং দুটি নতুন মেডিকেল কলেজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় জিন্দ ও হরিয়ানা
উপস্থিত জনসভাকে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে গোটা হরিয়ানা রাজ্য উন্নয়নের এক নতুন ট্র্যাকে নিজেকে স্থাপন করেছে। আজকের এই মেগা কর্মসূচি বিজেপির ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের মিশনকে এক নতুন শক্তি যোগাচ্ছে। আজ জিন্দ তথা হরিয়ানার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রইল, কারণ দেশ তার প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন এখান থেকেই পেল।”
রেলের বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরে পিএম মোদী আরও বলেন, “আমরা যদি রেলের ইতিহাসের দিকে তাকাই, তবে দেখব ১৯ শতকের রেলের বৈশিষ্ট্য ছিল বাষ্পীয় ইঞ্জিন (Steam engine)। ২০ শতকের বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে ডিজেল ও বিদ্যুৎ-চালিত ট্রেন। আর এখন, এই ২১ শতকের রেলের নতুন পরিচয় হলো হাইড্রোজেন-চালিত পরিবেশবান্ধব ট্রেন। ভবিষ্যতে যখনই ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনের কথা উল্লেখ করা হবে, জিন্দ, সোনিপত এবং হরিয়ানার নাম সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।”
স্বচ্ছতা নিয়ে দেশবাসীর কাছে মোদীর বিশেষ আর্জি
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে এদিন জিন্দ তথা দেশবাসীর কাছে একটি বিশেষ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি আজ জিন্দের মানুষের কাছে কিছু চাইতে এসেছি। এই পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির জন্য কি মোদীর আসা খুব প্রয়োজন? জিন্দ ও হরিয়ানার মানুষ যদি আজ থেকে সিদ্ধান্ত নেয় যে আমরা আর কোথাও নোংরা করব না, তবে এই অঞ্চল মুহূর্তের মধ্যে ভোল বদলে ফেলতে পারে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকে নিজেদের স্বভাব এবং সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। একে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ দূষণ রোধে এবং খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতীয় রেলের এই হাইড্রোজেন ট্রেন প্রকল্প আগামী দিনে গেমচেঞ্জার প্রমাণিত হতে চলেছে। আর ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোকে হরিয়ানার ভোটের সমীকরণও যে অনেকটাই বদলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।