এক একর জমির দাম ৮ কোটি পার! অমরাবতীতে ইতিহাস গড়ল চন্দ্রবাবু সরকারের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত!

অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন রাজধানী অমরাবতীতে জমির দাম এবার আকাশ ছুঁল। দ্রুত গতিতে চলা পরিকাঠামো নির্মাণের মাঝেই রিয়েল এস্টেট বাজারে তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস। ‘অন্ধ্রপ্রদেশ ক্যাপিটাল রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (APCRDA) অমরাবতীতে পাঁচতারা হোটেলের জন্য প্রতি একর জমির বেস প্রাইস নির্ধারণ করেছে রেকর্ড ৮.২০ কোটি টাকা! অন্যদিকে, বেসরকারি স্কুলের জন্য এই দর প্রতি একর ৪.১০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। সরকারি জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অমরাবতীর ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

অমরাবতীকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ও বিশ্বমানের সুবিধাযুক্ত রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পাঁচটি বিলাসবহুল হোটেল এবং পাঁচটি বিশ্বমানের বেসরকারি স্কুল স্থাপনের জন্য আনুষ্ঠানিক টেন্ডার জারি করেছে সিআরডিএ (CRDA)। হোটেল প্রজেক্টের জন্য মোট ৯.১৯ একর এবং বেসরকারি স্কুলের জন্য ১৫.৮০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিলাসবহুল হোটেলের জন্য থাকছে কড়া নিয়মকানুন:
টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, রাজধানীতে তিনটি তিন-তারা (3-Star) এবং দুটি চার-তারা (4-Star) হোটেল খোলা হবে। তবে জমি পেলেই চলবে না, হোটেল পরিচালকদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্ত বাধ্যতামূলক করেছে প্রশাসন:

ন্যূনতম বিনিয়োগ: প্রতিটি হোটেল প্রজেক্টে কমপক্ষে ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

কক্ষ ও পরিকাঠামো: প্রতিটি হোটেলে ন্যূনতম ১২৫টি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কক্ষ থাকতে হবে এবং ভবনের ছাদে একটি হেলিপ্যাড থাকা বাধ্যতামূলক।

কর্মসংস্থান ও সুবিধা: হোটেলগুলোতে কমপক্ষে ১৭৫ জন কর্মচারীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলন কক্ষ (Conference Room) তৈরি করতে হবে।

বিশেষ সরকারি শর্ত: হোটেল পরিচালকদের প্রতি বছর ১৫ দিনের জন্য সরকারি সভা, সেমিনার ও সম্মেলনের উদ্দেশ্যে বিনামূল্যে কক্ষ প্রদান করতে হবে সিআরডিএ-কে।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হোটেলের নির্মাণকাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে বা নিয়ম লঙ্ঘন করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং জমা রাখা ব্যাংক গ্যারান্টি বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও সাফ জানানো হয়েছে।

৩৩ বছরের লিজে মিলবে স্কুলের জমি:
রাজধানী ও তার আশেপাশের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার প্রসারের জন্য পাঁচটি নামী বেসরকারি বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে সিআরডিএ। এই বিদ্যালয়গুলোর জন্য ৩৩ বছরের ইজারায় (Lease) মোট ১৫.৮০ একর জমি দেওয়া হবে। স্কুলগুলোতে এলকেজি (LKG) থেকে প্লাস টু (+2) পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করা হবে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অমরাবতীর তুলুর, নাভুলুরু, পেনুমাকা, কৃষ্ণায়াপাল্লেম এবং ডন্ডাপাডু এলাকায় গড়ে তোলা হবে।

কেন এই বিশাল উদ্যোগ?
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের মতে, রাজধানীর সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিচার বিভাগের সদস্য, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং দর্শনার্থীদের আধুনিক চাহিদা মেটাতেই এই হোটেল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগটি অমরাবতীকে একটি গ্লোবাল হাবে পরিণত করার পথে এবং আন্তর্জাতিক মানের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় মাস্টারস্ট্রোক হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *