অভিনয়ের মেগা অফার ফিরিয়ে সোজা কানাডা! থালাপতি বিজয়ের ছেলের একী কাণ্ড!

দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার তথা অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের (Vijay) পুত্র জেসন সঞ্জয় (Jason Sanjay) এবার রূপোলী পর্দায় পা রাখতে চলেছেন। তবে বাবার মতো ক্যামেরার সামনে নয়, তিনি আসছেন ক্যামেরার নেপথ্যে, পরিচালক হিসেবে। তাঁর প্রথম পরিচালিত তামিল ছবি ‘সিগমা’ (Sigma) মুক্তির অপেক্ষায়। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসার ঠিক আগে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জেসন খোলসা করলেন তাঁর এই জার্নি এবং পরিবারের থেকে পাওয়া অভূতপূর্ব সমর্থনের কথা।

জেসন জানান, ‘সিগমা’র একটি দৃশ্য লেখার আগেই তিনি পুরো গল্পটি তাঁর পরিবারকে শুনিয়েছিলেন। বাবা বিজয়, মা সঙ্গীতা, বোন এবং তাঁর কাছের বন্ধুরা গল্পটি শোনার পর একবাক্যে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন। জেসনের কথায়, “পরিবার ও বন্ধুদের এই পূর্ণ সমর্থনই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি জুগিয়েছে। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম আমার ওপর ওদের কতটা ভরসা রয়েছে। শুটিং শুরু হতেই বিজয় সেতুপতী স্যার, সুরি স্যারসহ অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”

শৈশব থেকেই সিনেমার পোকা!
একজন মহাতারকার সন্তান হিসেবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার চাপটা সবসময়ই আলাদা থাকে। তবে জেসনের কাছে সিনেমা দেখাটা শুধু বিনোদন ছিল না, ছিল বিশ্বকে দেখার চোখ। ফিল্মি পরিবারে বড় হওয়ায় ছোট থেকেই শুটিং স্পট আর প্রিমিয়ার শো-তে কেটেছে তাঁর শৈশব। জেসন বলেন, “আমি যখনই কোনো ছবি দেখতাম, খুব খুঁটিয়ে দেখতাম গল্পটা কীভাবে বলা হচ্ছে, শুরুটা কোথায় আর ন্যারেটিভ কেমন। এটা আমার কাছে একটা খেলার মতো ছিল। বন্ধুদের যখন সেই সিনেমাগুলোর গল্প বানিয়ে বলতাম, তখনই বোধহয় আমার ভেতরের পরিচালকটা প্রথম জেগে উঠেছিল।”

আলফনস পুথ্রেনের অভিনয়ের অফার ফিরিয়ে দেওয়া!
সাক্ষাৎকারে জেসন এক বড় গোপন তথ্য ফাঁস করেন। ‘প্রেমাম’ খ্যাত বিখ্যাত পরিচালক আলফনস পুথ্রেন জেসনের একটি ছবি দেখে তাঁকে একটি সিনেমার জন্য প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন জেসনের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।

কিন্তু জেসন সেই মেগা অফার ফিরিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি তখন ছাত্র ছিলাম, সিনেমাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবিনি। আর সবথেকে বড় কথা, যে পরিচালককে আমি মনে-প্রাণে শ্রদ্ধা করি, তাঁর স্ক্রিপ্ট শুনে পরে না করে দেওয়াটা আমার ঠিক মনে হয়নি।” অভিনয় না করলেও, এত বড় পরিচালকের নজরে আসায় তিনি গর্বিত বোধ করেছিলেন বলে জানান।

কানাডার ফিল্ম স্কুল থেকে ‘সিগমা’-র জন্ম
এরপর জেসন কানাডায় ফিল্ম মেকিং পড়তে যান। সেখানেই ‘সিগমা’র প্রথম খসড়া তৈরি হয়। ১২০ পাতার একটি পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজেকে যাচাই করার জন্য প্রথমে পুরো গল্পটিকে একটি ২০ মিনিটের শর্ট ফিল্মে রূপ দেন। ভারতে ফিরে এসে তিনি তাঁর মামা সঞ্জীবের মাধ্যমে ‘লাইকা প্রোডাকশনস’-এর তামিল কুমারনের সঙ্গে দেখা করেন।

জেসন বলেন, “আমি স্রেফ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একজন প্রযোজককে গল্প শোনাতে গিয়েছিলাম। ভাবিনি সত্যিই সিনেমা হবে। কিন্তু তামিল কুমারন স্যার এবং পরে সুবাস্করণ স্যারের গল্পটি দারুণ পছন্দ হয়। আর এভাবেই জন্ম নেয় ‘সিগমা’।”

প্রেমের ছবি নয় কেন?
সাধারণত ২৫ বছর বয়সী একজন নতুন পরিচালকের কাছ থেকে মানুষ রোমান্টিক লাভ স্টোরি আশা করে। কিন্তু জেসন হেঁটেছেন উল্টো পথে। তিনি বেছে নিয়েছেন একটি অ্যাডভেঞ্চারাস ‘হেইস্ট’ (ডাকাতি বা চুরির প্রেক্ষাপটে তৈরি) ঘরানার সিনেমা। জেসনের মতে, তামিল সিনেমায় প্রেমের ছবির তুলনায় ‘হেইস্ট’ মুভি খুব কম হয়েছে। তবে ‘সিগমা’ শুধু অ্যাকশন ফিল্ম নয়, এতে রোম্যান্স, বন্ধুত্ব, কমেডি এবং আবেগের এক দারুণ মিশ্রণ রয়েছে।

সিনেমার প্রমোশনাল মিউজিক ভিডিও ‘সিগমা স্টাইল’-এ জেসনকে সামান্য সময়ের জন্য দেখা যাওয়ায় তাঁর অভিনয় জীবনের জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে জেসন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওটা স্রেফ সিনেমার প্রচারের স্বার্থে করা, এখনই অভিনয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *